আইনগত বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজউকের বোর্ড সভার অনুমোদনে ৪ শতাধিক প্লটের আকার বৃদ্ধির তথ্য পাবার বিষয়টি জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মো.সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
তিনি বলেন, এরমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.খন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে হলফ নামায় জঘন্যতম
দুদক কমিশনার চুপ্পু বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে সচিব শওকত হোসেন অবৈধ সম্পদের লোভ সামলাতে পারেননি। রাজউকের প্লট নেয়ার আবেদনে এই শতকত হোসেন হলফ নামায় সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, রাজধানীতে তার নিজের কোনো প্লট বা ফ্ল্যাট নেই।
তিনি বলেন, অথচ এর আগেই সরকারের অনুমতি নিয়ে সচিব শওকত হোসেন গুলশানে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। সিটি করপোরেশনের ট্যাক্সের রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে ওই ফ্ল্যাটের মালিক শওকত হোসেন। আবার ওই ফ্ল্যাটটি তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে দান করেছেন বলে প্রচার করেন শওকত হোসেন।
দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ২০০১ সালে সম্প্রসারিত উত্তরা প্রকল্পে নিজের নামে সচিব শওকত হোসেন উত্তরা প্রকল্পে বরাদ্দ প্রাপ্ত একজনের কাছ থেকে ৩ কাঠার একটি প্লট নিজের নামে ক্রয় করেন। পরে ওই ৩ কাঠার প্লটকে ৫ কাঠায় পরিণত করেন। পরে ২ কাঠা বিক্রি করেন। কিন্তু ডেভলপমেন্টের সময় পুরো ৫ কাঠার উপরই আম-মোক্তারনামা দেন। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে শওকত হোসেনের স্ত্রী ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ড. আয়শা বেগম রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে সাড়ে ৭ কাঠার একটি প্লটের আবেদন করেন। তিনি হলফ নামায় উল্লেখ করেন, রাজধানীতে তার এবং তার স্বামীর নামে কোনো প্লট বা ফ্ল্যাট নেই। পরে তার নামে বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ৭ কাঠার প্লটটি আবার আবেদন করে ১২ কাঠায় পরিণত করেন। সচিব শওকতের মা জাকিয়া আমজাদের নামে উত্তরা আবাসিক প্রকল্পে আবেদন করে ৩ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন। তার আবেদনেও উল্লেখ করা হয়, রাজধানীতে তার কোনো প্লট বা ফ্ল্যাট নেই। পরে আবেদন করে ওই ৩ কাঠার প্লটকে ৫ কাঠায় পরিণত করেন।
জানাযায়, রাজউকের চেয়ারম্যান, বোর্ড সদস্য এবং কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রভাবশালী ও বিত্তবানরা রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্প, উত্তরা সম্প্রসারিত আবাসিক প্রকল্প, পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্প এবং কেরাণীগঞ্জ ঝিলমিল প্রকল্প থেকে ১৫টি ক্যাটাগরির ৪ শতাধিক প্লটের আকার বৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে।
এই প্লট গ্রহীতাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক ও বর্তমান বিচারক, মন্ত্রী, এমপি, আইনজীবী, রাজনীতিক, আমলা, স্থানীয় প্রশাসন, পেশাজীবী,চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিত্তবান প্রভাবশালী লোকজন। এরমধ্যে অনেকেরই রাজধানীতে নিজস্ব বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট এবং জমি রয়েছে এমন তথ্যও দুদকের কাছে আছে।
এদিকে গত ২ এপ্রিল দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিচালক যতন কুমার রায় রাজউকের বর্ধিত প্লট বরাদ্দের তালিকাসহ আনুসাঙ্গিক নথিপত্র চেয়ে চিঠি দেন রাজউককে। তার ওই চিঠির আলোকে রাজউক গত ১৫ এপ্রিল দুদকে একটি তালিকা সরবরাহ করে।
ওই তালিকায় গত ৪ বছরে রাজউকের ১৫টি বিধি লঙঘন করে ৪ শতাধিক বর্ধিত প্লট বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।
এদিকে তথ্য গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩টি প্লট বরাদ্দের পর আকার বৃদ্ধির অভিযোগে বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল মতিঝিল থানায় ৩টি মামলা করে দুদক। মামলা নং-৭,৮,৯।
এই বিষয়ে দুদকের কর্মকর্তা যতন কুমার রায় কয়েক দফায় তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নরুল হুদা, বোর্ডর সদস্য ও সাবেক ডিএনসিসির প্রশাসক আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, বোর্ডর সদস্য ও সাবেক ডিএনসিসি আখতার হোসেন, বোর্ডের সদস্য এম. মাহবুবুল আলম, বোর্ডের সদস্য নাজমুল হাই , বোর্ডের সদস্য শেখ আব্দুল মান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ আলম, সাবেক চেয়ারম্যান মো আজিজুল হক, সাবেক সদস্য একেএম হারুন, নাসির উদ্দিন, রিয়াজুল করিম, সাবেক সচিব আতাউল হক মোল্লা, সাবেক পরিচালক মো. শামছুল আলম, রেজাউল করিম তালুকদারসহ ২০জন সাবেক ও বর্তমান রাজউক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
কিন্তু রাজউকের কোনো কর্মকর্তাকে সচিব শওকত হোসেনের এই ৩ মামলায় আসামি করা হয়নি।
এদিকে শওকতের প্লট জায়িাতির মামলায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় সরকারের ৩ সচিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এই ৩ জন হলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খিজির আহমেদ, রাজউকের সহসচিব হাফিজুর রহমান এবং যুগ্ম সচিব নাজমুল আহমেদ।
এছাড়া আসামি শওকত হোসেনকেও মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। তবে আগামী ২৫মে আসার জন্য সময় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
[b]ঢাকা, একে ২০মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর[/b]
অপরাধ
জঘন্যতম প্রতারক সচিব শওকত: দুদক কমিশনার
আইনগত বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজউকের বোর্ড সভার অনুমোদনে ৪ শতাধিক প্লটের আকার বৃদ্ধির তথ্য পাবার বিষয়টি জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মো.সাহাবুদ্দিন চুপ্পু





