বিএনপি ঢাকা মহানগর আহবায়ক ও সাবেক পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস এবং সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে ৭ একর জমি বরাদ্দে দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার কমিশনের এক সভায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ১৫ কোটি সাড়ে ৫২ লাখ ৯০০ টাকা আত্মসাতের মামলায় চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচর্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, কমিশনের এ অনুমোদনের ফলে যে কোনো দিন আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হতে পারে।
চার্জশিটভুক্ত ৫ আসামির মধ্যে রয়েছেন- সাবেক পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং হিসাব সহকারি মতিয়ার রহমান।
জানা যায়, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে প্রায় ৭ একর বরাদ্দ দেয়া হয়। তখন জমির বাজার মূল্য ছিল ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা । এর ফলে সরকারের ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
এ অভিযোগে গত বছর ৬ মার্চ দুদকের তৎকালিন উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং হিসাব সহকারি মতিয়ার রহমান, সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট) মোঃ আজহারুল হকে আসামি করা হয়।
জানা যায়,পরে তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক হামিদুল হাসান নোটিশ পাঠিয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পরিচালক মেহেদী হাসান, সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট) ও গৃহায়ণের বর্তমান সদস্য মোঃ আজহারুল হক, কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং হিসাবরক্ষক মতিয়ার রহমানসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ।
এ মামলায় দুদক গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর আগের তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ও তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এদিকে গত ৮ নভেম্বর এ মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় তার তার তদন্ত প্রতিবেদনে এ ৫ জনকে চার্জশিটে আসামি করার সুপারিশ রেখে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু কমিশন তার প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি মামলাটি নতুন করে তদন্তের জন্য উপ পরিচালক হামিদুল হাসানকে দায়িত্ব দেয়।
তার দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন সংশোধন করে কমিশন উল্লেখিত ৫ জনকে চার্জশিটে অভিযুক্ত রেখে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলে অনুমতি দেয়।
একে, জেএ





