অগ্রণী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান খানসহ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্যাংকের অপর দুই কর্মকর্তা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আখতারুল আলম ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শফিউল্লাহ।
গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মিজানুর রহমান খানকে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ করে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক বেনজীর আহমেদ আজ (শুক্রবার) আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুদকের সরকারি কৌঁসুলি কবির হোসাইন বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ, ডিএমডি মিজানুর রহমান খানসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।
রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ৫৫৫ নম্বর প্লটে মিজানুর রহমানের বৈধ মালিকানা ছিল না। মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জমির মালিক শেখ মো. জয়নাল আবেদীন ও আমমোক্তারনামা সূত্রে দাবিদার তাঁর ছেলে শেখ মো. আবদুল গণির মামলা এখনো চলমান।
রাজউক অনুমোদিত বৈধ নকশাও ছিল না। বিতর্কিত ওই জমিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের অস্বাভাবিক নির্মাণ ব্যয় ও আয় দেখিয়ে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংক।
মঞ্জুর হওয়া ঋণ থেকে পর্যায়ক্রমে ৯৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে ব্যাংক তথা রাষ্ট্রের ওই পরিমাণ অর্থ তাঁরা আত্মসাৎ করেন।
এসএম





