মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জাতীয় পাটির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৩২তম ও শেষ সাক্ষী এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। 


মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে বুধবার পুনর্নির্ধারণ করে আদেশ দেন।


আজ এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থ হওয়ায় সময়ের আবেদন জানান প্রসিকিউশন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেন করেন ট্রাইব্যুনাল।


তাছাড়া প্রসিকিউশনের করা দু’টি আবেদনের মধ্যে একটি নামঞ্জুর ও অপরটির বিষয়ে বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া ৫ জনের জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানালে শুনানি শেষে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণে তাদের আবেদনের শুনানির দিন বুধবার নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৪ মার্চ কায়সারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারকে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দু’টিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।


গত বছরের ৫ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে ছেলের বাসায় রয়েছেন কায়সার। কায়সার হচ্ছেন দ্বিতীয় কোনো আসামি যাকে জামিনে রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

গত বছরের ২১ মে বিকাল পৌনে চারটায় সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। পরদিন ২২ মে কায়সারের জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে ১৫ মে প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে,৭১ এ সৈয়দ কায়সার প্রথমে হবিগঞ্জ মহাকুমা শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫০০/৭০০ স্বাধীনতাবিরোধী লোক নিয়ে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ নামে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য একটি সহযোগী বাহিনী গঠন করেন।

ঢাকা,কেএ ১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ