রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় উত্তরা জোনের পুলিশের এ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রেজাউর রহমানকে লাঞ্চিত করার জেরে দক্ষিণখান থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদকে বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ফয়েজ আহমেদ দক্ষিণখানে কয়েকটি বিচার করে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। এ নিয়ে কয়েকদিন আগে দক্ষিণখান থানার ওসি লুৎফর রহমান ফয়েজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফয়েজ ওসি লুৎফর রহমানের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং পরে মাফ চায়। এছাড়া ফয়েজ দক্ষিণখানে ভূমি দস্যু হিসেবেও পরিচিত। আসিয়ান সিটির জমির দালালি করে অনেক অসহায় মানুষের ক্ষতি করেছে এই ফয়েজ। এদিকে সিভিল এভিয়েশনের টেন্ডার বাঁজিতেও আধিপত্য কায়েম করে রেখেছে ফয়েজ।
এ কয়েকটি বিষয় নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণখান থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে এ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রেজাউর রহমানের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে ফয়েজ আহমেদ। কথাবার্তার এক পর্যায়ে এসি রেজাউরকে ধাক্কাও দেয় ফয়েজ।
এ সময় উপস্থিত সে সময় দক্ষিণখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাবেক উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম তোফাজ্জল হোসেন, দক্ষিনখান আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যডভোকেট আবু হানিফ, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুজ্জামান মিঠু ব্যাপারটি মিটমাট করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু এসি রেজাউর রহমান রাগে ইফতার না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। এছাড়া উত্তরাতে আলাউদ্দিন টাওয়ারে আগুন লাগাতে এসি রেজাউর তাড়াতাড়ি করেন তিনি। এরপর রাত ৯টার দিকে ফয়েজ আহমেদকে দক্ষিণখান থানায় ডেকে নিয়ে আনেন ওসি লুৎফর রহমান।ফয়েজকে এসি রেজাউর রহমানের কাছে মাফ চাইতে বলেন ওসি লুৎফর। কিন্তু এসময়ও খারাপ ব্যবহার করে ফয়েজ আহমেদ। ফয়েজের খারাপ ব্যবহারের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়েজকে বেধড়ক মার মারেন এসি রেজাউর। এরপর থানা হাজতে আটকে রাখা হয় ফয়েজকে।
এ সময় ফয়েজের সাথে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের বিমানবন্দর থানার সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম। রবি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ইফতার অনুষ্ঠানে ধাক্কা লেগেছে সত্যি কিন্তু অনুষ্ঠানে এতো মানুষের মধ্যে ধাক্কা লাগলে তো কিছু করার নেই। তবে ফয়েজের অন্য কোন অভিযোগের কথা স্বীকার করেন নি রবিউল ইসলাম।
এর কয়েক ঘন্টা পরে রাত ২টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতারা থানায় এসে পুলিশের সাথে কথা বলে ফয়েজকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।গতকাল সন্ধ্যার ইফতারে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা মগানগর উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ইফতার অনুষ্ঠানে মানুষ থাকে বেশি। সবাই ছিল সিভিল পোষাকে, সেজন্য যে কোন কারণে ধাক্কা লাগতে পারে। তাই সামান্য কারণে একজন ত্যাগী নেতাকে এভাবে বেধরক পিটানো কোন ভাবেই উচিত হয়নি। আমরা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। তবে ফয়েজ আহমেদের চাঁদাবাজি ও ভূমি দস্যুতার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান মিজানুর রহমান।
এ বিষয়ে ফয়েজ আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন বলতে রাজি হোন নি। এছাড়া ফয়েজ আহমেদকে পিটানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন এসি রেজাউর রহমান এবং দক্ষিণখান থানার পক্ষ থেকেও এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়।
ইআর





