একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা একেএম ইউসুফকে যুদ্ধাপরাধ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নিষ্পত্তি ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে ইউসুফের ময়না তদন্তের প্রকৃত রিপোর্ট দাখিলের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল ইউসুফের মৃত্যু কারণ জানতে চান।
এর আগে সকালে ইউসুফকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণার আবেদন করেছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর দুপুরে ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করেন।
সকালে শুনানিতে অ্যাডভোকেট হায়দার আলী বলেন, ইউসুফকে দোষী সাব্যস্ত করে একটা রায় অথবা কমপক্ষে একটা পর্যবেক্ষণ থাকা উচিত। কারণ এটা সাধারণ কোন, মামলা নয়, দাবিও নয়। এটা মানবতার ও ইতিহাসের দাবি। কোন রায় দেয়া না হলে ইতিহাস আমাদেরকে ক্ষমা করবে না।
অপরদিকে ইউসুফের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার বলেন, আমাদের দেশের ফৌজদারি কার্যবিধিতে স্পষ্ট কোন আইন নেই যে, আসামী মারা যাওয়ার পর তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে কি না?
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে এটা মানবতার ও ইতিহাসের দাবি। এই দাবির কারণে যেন আদালত বিব্রত না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত’।
ইউসুফের অপর আইনজীবী সাইফুর রহমান বলেন, ‘একজন আসামী মৃত্যুবরণ করার পর তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা’ এই সাধারণ নীতি মানা উচিত।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট হায়দার ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজের কয়েকটি কেস রেফারেন্স দাখিল করে বলেন আসামী মৃত্যুবরণ করার পরও তার রায় দেয়া হয়েছে।
এসময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজের রেফারেন্স কি আমাদের এখানে গ্রহণযোগ্য হবে? কারণ এ ট্রাইব্যুনালের কোন রায় তো ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজে আপিল করা যায় না। সুতরাং আমাদের দেশে কি এমন কোন কেস রেফারেন্স আছে যেখানে এমন কোন আসামির মৃত্যুর পরও তার বিচার অব্যাহত ছিল বা রায় দেয়া হয়েছে।
এরপর হায়দার আলী বলেন, তাহলে ইউসুফকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় অথবা কোন পর্যবেক্ষণ দেয়া হোক। কারণ এটা মানবতার দাবি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে একে এম ইউসুফ অসুস্থজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু পরিবারের দাবি সুচিকিৎসার অভাবে তিনি মারা গেছেন।
আজ এ মামলায় যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল।
এর আগে ইউসুফের পক্ষে তার ছেলে একেএম মাহবুবুর রহমান সাফাই সাক্ষ্য দেয়।
গত ৩০ জানুয়ারি ইউসুফের পক্ষে দাখিলকৃত ৫৬জনের তালিকা থেকে ৩জনকে সাফাই সাক্ষী হিসেব সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
ইউসুফের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৭জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত বছরের ১ আগস্ট একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। তাকে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ ৪ ধরনের ১৩টি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি হত্যা, ৭টি গণহত্যা এবং অগ্নিসংযোগ ও ১টি লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা, জিই ফেব্রুয়ারি ১২ (টাইমনিউজবিডি.কম)
অপরাধ
ইউসুফকে অব্যাহতি দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা একেএম ইউসুফকে যুদ্ধাপরাধ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নিষ্পত্তি ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।





