ঝুট ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান সুজনকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্য মিরপুর মডেল থানা থেকে পালিয়েছে । গত মঙ্গলবার থেকে তারা আর থানায় যায়নি।
এদের মধ্যে একজন এএসআই এবং দুজন কনস্টেবল। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে ঝুট ব্যবসায়ী সুজনকে হত্যার অভিযোগে মিরপুর থানার এসআই জাহিদুর রহমান খানকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন জানান, নিহতের স্বজনদের অভিযোগের পরপরই এসআই জাহিদকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছিল। জাহিদকে গ্রেফতারের আগেই এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার এবং রাশেদুল পালিয়েছে। এর আগে তারা থানায় কর্মরত ছিল।
তিনি জানান, তাদের গ্রেফতারের জন্য ঢাকার সম্ভাব্য জায়গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সংশ্লিষ্ট থানায়ও জানানো হয়েছে।
ওসি জানান, এই মামলায় অপর আসামি পলাশ, ফয়সাল এবং খোকনও পলাতক রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই পুলিশের সোর্স বলে জানা গেছে।
এদিকে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এসআই জাহিদ ও পুলিশের সোর্স নাসিরের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার এসআই জাহিদকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার মিরপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪৮। এ মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলেন, এসআই জাহিদুর রহমান খান, এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার, রাশেদুল, পুলিশ সোর্স নাসির, পলাশ, ফয়সাল এবং খোকন।
মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই দিবাগত রাতে শাহআলী এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান সুজনকে মিরপুর থানার এসআই জাহিদ ধানমন্ডির শংকরের বাসা থেকে মিরপুর থানায় ধরে নিয়ে যায়। সেখানে সুজনের স্ত্রী-কন্যার সামনেই ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সুজনের মৃত্যু হয়।
ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) জেএ





