প্রচণ্ড চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এটা বিচার বিভাগের জন্য নজিরবিহীন ঘটনা বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে জয়নুল এ কথা বলেন। বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নিয়ে পুনরায় বৈঠক করবে আইনজীবী সমিতি।
সমিতির সভাপতি বলেন, “আজ সভায় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আইনজীবী সমিতি যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে ১৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।”
গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি অসুস্থতাজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটি চান। বিষয়টি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, “গতকাল আমরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। জানতে চাইছিলাম কোনো চাপে, কোনো কারণে তিনি ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন কি না। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেন নাই। তিনি সকালে এসে দুপুর ১টার সময় ছুটির দরখাস্ত দিয়ে কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
অথচ তিনি এর আগে আমাদের চিঠি দিয়ে বলেছেন, আদালত খোলার দিন তিনি আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অতীতের রেকর্ড বলে, কোনো প্রধান বিচারপতি দাওয়াত দিয়ে এভাবে ছুটি নিয়ে চলে যান নাই। অথচ সাবেক প্রধান বিচারপতি ফজলুল করিম এভাবে দাওয়াত করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তিনি হুইল চেয়ারে করে এসে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।”
তিনি বলেন, “এই প্রধান বিচারপতি এমন কী করেছেন যে তিনি ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। তার ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা হয়েছে, যাতে তিনি ছুটি নিয়ে চলে যান। দেশ জানে, জাতি জানে, সারা পৃথিবী জানে, একটি রায়ের পর সরকার তাঁর ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। যাতে তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি ছুটিতে যাননি, ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, যেতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে।”
জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, “আমরা মনে করি, এ জন্য তাঁর সঙ্গে দেখা করে জানার অধিকার রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি, এ জন্য বিকেল ৩টায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করব। আইনজীবীরা আজ আমাদের কাছে জানতে চান, তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে সাক্ষাৎ করা প্রয়োজন। আজ যদি মানুষ ছুটির কারণ জানতে না পারে, তাহলে জাতির জন্য সেটা দুঃখজনক হবে।”
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোটের অবকাশ শুরুর পর বিদেশ সফর করে আসেন বিচারপতি সিনহা। এক মাসের বেশি সময়কার লম্বা অবকাশ শেষে সুপ্রিম কোর্ট খোলার ঠিক আগের দিন গতকাল নাটকীয়ভাবে আবার ছুটিতে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর গতকাল প্রধান বিচারপতি এক মাসের ছুটিতে যান। ছুটির ক্ষেত্রে অসুস্থতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট খোলার ঠিক আগের দিন ‘নজিরবিহীনভাবে’ প্রধান বিচারপতি কেন দীর্ঘ ছুটিতে গেলেন তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
কারণ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কোনো আমলেই আদালত খোলার প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
তবে আইনজীবী সমিতির নেতারা জোর করে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করলেও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কোনো চাপে নয়, ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
এমবি





