দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায় মুক্তির খেতাব পাওয়া বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক রাজশাহীর সরকার দলীয় এমপি এনামুল হকের ট্যাক্স ফাঁকির নথি এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে।
আজ বুধবার এনা প্রপাট্রিজের চেয়ারম্যান ও এমপি এনামুলের কোম্পানীর নীট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। তিনি সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স (আয়কর) দিয়েছেন মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকার উপর। অর্থাৎ তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার। এ নথিটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুদকের দাখিল করা অনুসন্ধানী কর্মকর্তা সাবেক পরিচালক যতন কুমার রায়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ এবং তথ্য গোপনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
একই সঙ্গে এনামুল হকের বিরুদ্ধে তার কোম্পানীর ৮৪ কোটি টাকা নীট প্রফিটের মধ্যে মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকার উপর ট্যাক্স প্রদান করেন। অর্থাৎ তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন।

অথচ দুদক গত ১৮ ডিসেম্বর এমপি এনামুল হককে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দিয়েছে। আর এনবিআর’র উপর এমপি এনামুল হককে ন্যাস্ত করেছে দুদক।
এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের হাত থেকে বাঁচার জন্য এমপি এনামুল হকের আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাস মোবাইলে (নম্বর ০১৬৭৭০৭২১১১) থেকে তৎকালীন দুদক অনুসন্ধানী কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ের মোবাইলে (নম্বর-০১৬৮৭৭১১২৭৯) ‘হাওয়া করে’ ফেলার হুমকি দেন। আর ওই হুমকিতে বলা হয় এমপি এনামুল হকে কোম্পানি এবং ব্যক্তিগত সম্পদ আলাদা করে দেখতে হবে। তা না হলে হাওয়া করে ফেলা হবে। দুদকের উপরের সবাই ম্যানেজ হয়েছেন বলেও জানানো হয়।
কিন্তু নিরুপায় হয়ে দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায় (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৭৭৭) করেন।
অবশেষে দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনার দলীয় এমপি এনামুল হক দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দিলেন। আর এনামুল হককে এনবিআর’র কাছে হস্তান্তর করেই দায়িত্ব পালন শেষ করলেন দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনার। অথচ তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুদক নিজেই তথ্য গোপন করে গেলেন।
একে