শিগগিরই প্রাইম ব্যাংকের দিলকুশাস্থ ইসলামী ব্যাংকিং শাখার ৯৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার চার্জশিট অনুমোদন দিতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার আরজিতে একজনের নাম থাকলেও দুদকের তদন্তে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৪০ জনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট একধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত ২ মাস ধরে দুদকের যাচাই বাছাই শাখায় চাপা পড়ে রয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারি পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজার প্রতিবেদনটি। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে দুদক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সূত্র মতে, ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল প্রায় ৬ বছরে প্রাইম ব্যাংকের ওই শাখায় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটে। ২০১২ সালের ২৯ মার্চ প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ ইফতেখার হোসেন বাদী হয়ে ব্যাংকের ওই শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ৭৩।  
ওই মামলায় মাত্র ৪৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত ও মানিলন্ডারিং আইনের অপরাধ হওয়ায় মতিঝিল থানা পুলিশ মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেয়।
পরে দুদকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সহকারি পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মামলাটি তদন্ত করেন। তার তদন্তে প্রায় ৯৩ কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে ৪০ জনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
আর এই ৪০ জনের মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের ১৮ জন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৭ জন এবং তাদের সহযোগী আরও ১৫ জন রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে ৪০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯/৪০৮/৪৬৭/৪৭১/১০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় চার্জশিট দাখিলের মতামত দিয়েছেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, প্রাইম ব্যাংকের ওই শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ ফেরদৌস ও তার স্ত্রী (গৃহবধু) ফারহানা আখতার, সাবেক ম্যানেজার মেজবাহুল বার চৌধুরী, সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা মজিদ আনসারি, সিনিয়র অফিসার হুমায়ুন কবির, নিরক্ষণ অফিসার সালেহ উদ্দিন,সিনিয়র অফিসার নুরুল আমিন,সিনিয়র অফিসার আসিফুল ইসলাম,
জুনিয়র অফিসার আতিকুল ইসলাম,অফিসার আশরাফুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার মীরান হোসেন, সিনিয়র অফিসার কামরুল ইসলাম, বৈদেশিক শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন বালী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন,ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তাক হোসেন।
এছাড়া ব্যাংকের বাইরের, এসকে এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহমুদুল ইসলাম, ইলহাম এন্টারপ্রাইজের মালিক তাসমিন শারমীন,ইজরা এশিয়ান ট্রের্ডের মালিক এরশাদুল্লাহ আকমল, ত্রিটেকের মালিক মো. তাসনিম আলম, নিউএন এসকে এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজেদুর রহমান, লুলু কর্নারের মালিক জাকির হোসেন,
ফিরোজ ট্রেডার্সের মালিক ফিরোজ আলম, মশিয়ুর রহমান, কামরুন নাহার, এনায়েত উল্লাহ, নাজমুন নাহার, রাজিয়া জান্নাত, রতনা মাহবুব, কাওসার আলী, মাহবুব ইলাহী, জাহাঙ্গির হোসেন, শামসুল আলম, জাহিদুল, আমিরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, আবুল হাসেম, রুহুল আমিন প্রমুখ।
[b]ঢাকা, একে, ১৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]