যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল ও তার মালিকানাধীন দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ সংবাদদাতা হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর।

রমনা মডেল থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (বোর্ড প্রশাসন-১) এ এইচ এম আবদুল করিম বুধবার (০৯ ডিসেম্বর ২০১৫) সন্ধ্যায় এই জিডি করেন।

এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ বোর্ড সভায় জিডি করার এ সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বাবুলের প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপকে ‘বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি প্রদানকারী’ প্রতিষ্ঠান বলা হয়েছে। বাবুলের মালিকানাধীন দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের বিরুদ্ধে ‘অমার্জিত, শিষ্টাচারবিবর্জিত, মানহানিকর, বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্যসম্বলিত ধারাবাহিক প্রতিশোধপরায়ণমূলক’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের জন্য রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর যদি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে দেশের অগ্রগতি হবে না। এনবিআর এর উপর আক্রমণ হলে তা দেশের উপর আক্রমণের শামিল।’

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সভায় উপস্থিত সদস্যরা মতামত দেন যে, পত্রিকাটির এসব কার্যক্রম এনবিআর তথা সরকারের সার্বিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যর্থ করার লক্ষ্যে একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত ও দূরভিসন্ধিমূলক কৌশল; যা প্রতিহত করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘দূরভিসন্ধিমূলকভাবে’ দৈনিক যুগান্তরে ধারাবাহিকভাবে সাতটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং এনবিআর ও এর চেয়ারম্যানকে হেয় করার হীন উদ্দেশ্য নিহিত আছে।

এমতাবস্থায়, উক্ত পত্রিকার এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে জিডি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।অন্যদিকে এনবিআরের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যমুনার বাবুল বলেন, ‘উনি (নজিবুর রহমান) তো একটা পাগল। কার কাছ থেকে কি ইনফরমেশন পেয়ে বলছে, যমুনা গ্রুপ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করা হয় যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যমুনা গ্রুপ এমন দাবি করেছে।

এতে বলা হয়, বুধবার এনবিআরের পক্ষে রমনা থানায় যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল এবং দৈনিক যুগান্তরের ইকোনমিক এডিটর হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে যে জিডি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ জিডি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে যমুনা গ্রুপ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছে, জিডির ৪ নম্বর প্যারায় জারা এক্সেসোরিজ লিমিটেড, ৫ নম্বর প্যারায় এমকাবা লিমিটেড এবং ৬ নম্বর প্যারায় হংকং গার্মেন্টস লিমিটেডের নাম উল্লেখ করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে এসব কোম্পানির সঙ্গে যমুনা গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকদের এবং যমুনা গ্রুপের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, এনবিআর সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যমুনা গ্রুপকে হেয় ও হয়রানি করার জন্যই এ জিডি করেছে।

যমুনা গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের কোনো পরিচালকের নাম উপর্যুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানের মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস-এ আছে কি না তা খতিয়ে দেখলেই প্রমাণিত হবে যে, এনবিআরের জিডি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিট নং ৩০২৭/২০০৩ ও ৩০২৮/২০০৩ উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কিভাবে এই জিডির অন্তর্ভুক্ত করা হলো সেটাও বোধগম্য নয়।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখপূর্বক এ ধরনের জিডি দায়েরের ঘটনাও নজিরবিহীন বলে মনে করে যমুনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।

এতে বলা হয়, জিডির মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের একাধিক প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলা হয়েছে, যা সত্য নয়। যুগান্তরের প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ।

এর আগে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিতে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলা হয়েছে, যুগান্তরের প্রকাশিত প্রতিটি প্রতিবেদনই সত্য। একটি প্রতিবেদনও মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে যে শাস্তি দেয়া হবে, যমুনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ তা মাথা পেতে নেবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়, একাধিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের অভিমত নিয়েই ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশ বিন্দুমাত্রও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না।

যমুনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভুল তথ্য পরিবেশন করার ফলে এনবিআর ভুল বুঝে (মিসগাইডেড) এ ধরনের জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জিডিতে উল্লেখিত তথ্য তদন্ত করলেই আসল সত্য উদঘাটন হবে।

কেবি