সম্প্রতি খুন হওয়া সাইক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী আফসানা ফেরদৌসীর গোপন বিয়ের খবর জানতো না পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের দাবি, আফসানা কখনো পরিবারের কাছে তার বিয়ের কথা জানায়নি। তবে, হাবিবুর রহমান রবিন নামে একজনের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি। হাবিব ছাত্রলীগ তেজগাঁও কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।আফসানা নিহত হওয়ার পর থেকেই সে লাপাত্তা।
নিহতের চাচা হাসানুজ্জামান মিন্টু ইংরেজী দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, আফসানার বিয়ের কথা তারা ঢাকায় মানিকদিতে তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনেছেন।
মিন্টু আরো বলেন, পুলিশের কাছে তার ভাতিজির বিবাহের রেজিস্ট্রেশনের কপি আছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে, এ ব্যাপারে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের নিশ্চিত করা হয়নি।
আফসানার চাচা আরো বলেন, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে, তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কাফরুল থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শিকদার মো: শামীম হোসেন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ই আগস্ট কয়েকটি গণমাধ্যমকে আফসানা ফেরদৌসীর মৃত্যু শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ।
গলায় দাগ ছিল উল্লেখ করে ময়নাতদন্তকারী সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের মো. সফিউজ্জামান বলেছিলেন, ‘এটা আত্মহত্যা না হত্যা এখনই বলতে চাই না। সেটা মন্তব্য করা হয়ে যাবে। তবে শ্বাসরোধে নিহত হয়েছেন তিনি।’
এদিকে, পরিবারের পাশাপাশি আফসানার সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন থেকেও দাবি করা হচ্ছে, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের নেতা রবিন ও তার সহযোগীরা আফসানাকে হত্যা করেছে। তাদের আশঙ্কা অন্যান্য অনেক ঘটনার মতো এটিকেও 'আত্মহত্যা’বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
নিহত অবস্থায় পাওয়ার পর থেকে আফসানার পরিবারের কাছে টেলিফোনে ‘সমঝোতার প্রস্তাব’দেয়া হয় তেজগাঁও কলেজের সাংগাঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনের পক্ষ থেকে। এরপরই আফসানার পরিবারের শঙ্কা, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা হওয়ায় বিভিন্ন রিপোর্ট ও তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন রবিন।
তবে বুধবার (১৭ই আগস্ট) থেকে সবকটি গণমাধ্যমে সংবাদ ও ফোন নম্বরগুলো প্রকাশিত হওয়ায় আর কোনও ‘সমঝোতা’র জন্য ফোন আসেনি উল্লেখ করে আফসানার ভাই ফজলে রাব্বী বলেন, আমাদের বোন কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। আর তার সঙ্গে আমার যখন শেষ কথা হয়েছে, তখন সে আমার সঙ্গে ঈদের পরিকল্পনা পর্যন্ত করেছিল। এখন আমাকে বললেই হলো, সে আত্মহত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ই আগস্ট বিকেলে দু’জন যুবক সিএনজিতে করে আফসানাকে নিয়ে হাসপাতালের আসে। তবে জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তির জন্য স্ট্রেচার নিয়ে আসতে বলে তারা সিএনজির ভাড়া মেটাতে যাচ্ছে বলে সটকে পড়ে। কর্তব্যরত চিকিৎসক বলছেন, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
আফসানা সক্রিয়ভাবে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী থাকায় সংগঠনটি ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
অপরদিকে, কলেজে ছাত্রলীগের নানা কর্মসূচিতে সরব থাকা সাংগাঠনিক সম্পাদক রবিন ঘটনার দিন থেকে আর কলেজে আসেনি বলে কলেজের অন্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
কেবি





