নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠবসের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততা নেই- মর্মে পুলিশের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদনে ওই ঘটনার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে সেদিন পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ছিল আকস্মিক। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল ক্যান্তি ভক্ত ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান উভয়েই অদ্ভুত ঘটনার শিকার। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে গত ৯ জুন জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।
ওই দিন শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির পরিপ্রেক্ষিতে চলমান তদন্তে অগ্রগতি আছে জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসি দুই মাস সময় নেন। রোববার তাদের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ আগস্ট ধার্য করা হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসকের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ মে ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ১৬ মে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়। সভার আলোচ্য সূচিতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার বিষয়টিও ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভায় এ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খু আলোচনা হয়, এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করে ওই কমিটির কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি ফোনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। সভায় নতুন করে যাতে সহিংসতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যদের নির্দেশ এবং শিক্ষকের যথাযথ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখাতে বলা হয়।

গত ২৯ মে নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

গত ২৬ মে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের কাছ থেকে পদত্যাগ পত্রে জোর করে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ স্বাক্ষর নিয়েছিল বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি আদালতে জানান।গত ১৮ মে নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়।

সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষকের কান ধরে ওঠবস করার ঘটনায় প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

গত ১৪ মে ইসলাম ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করলে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

এমএনজে