মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের আব্দুল লতিফ তালুকদার, শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে  অভিযোগ গঠন বিষয়ে আসামিপক্ষের শুনানি আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার‌্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালতে আসামিপক্ষে সময় আবেদন করেন ব্যারিস্টার মীর সরোয়ার হোসেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সাইয়েদুল হক সুমন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় আসামিপক্ষের শুনানির জন্য সময় পিছিয়ে আজ দিন ধার‌্য করেছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অফিসে প্রসিকিউটর সায়্যেদুল হক সুমন ও শেখ মুশফিক কবির তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র দাখিলের পর প্রসিকিউটর সুমন সাংবাদিকদের বলেন, বাগেরহাটের এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠণ ও ধর্মান্তরিতসহ ৯টি ভলিয়মে ৫ খন্ডে কেস ডায়েরী করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে ছয়টি এবং আব্দুল লতিফ ও খান আকরামের বিরুদ্ধে ৪টি করে অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত চূড়ান্ত করে গত ২৫ আগস্ট এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। এদের বিরুদ্ধে ৯টি খন্ডে মোট ৮৪৪ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া এদের বিরুদ্ধে ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানায় তদন্ত সংস্থা।

গত ২০ জুলাই আসামি সিরাজ মাস্টারকে বাগেরহাটের কচুয়ায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শাখারীকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোসহ ৬টি অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে তার চাচা শ্বশুর মৃত মোসলেম পাইকের পরিত্যক্ত খুপড়ি ঘর থেকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক ৩ আসামির সকলকেই পুলিশ কচুয়া, রাজশাহী ও বাগেরহাট সদর থেকে আটক করে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে।

গত ১০ জুন ট্রাইব্যুনাল-১ এই ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে কচুয়া থানা পুলিশ পরের দিন ১১ জুন আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদারকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। এর পর গত ১৯ জুন অপর পলালত আসামি আকরাম হোসেন খানকে রাজশাহী থেকে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন কচুয়ার শাখারীকাঠি বাজারে ৪২ জনকে গণহত্যার দায়ে নিমাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ২০০৯ সালে কচুয়া থানায় সিরাজ মাস্টারসহ ১২ জনকেআসামি করে মামলা দায়ের করেন।

কেএ