রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে। সে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদ্য পুরস্কার ঘোষিত জেএমবি সদস্য নজরুল ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান।

হাসান পঞ্চগড়ের দেবীধস থানার সোনারহার গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়া ওরফে মুন্নার ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।

বুধবার (০৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর উপশহর এলাকায় ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ কার্যক্রম উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আরএমপির পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাইক হাসানসহ দুই জেএমবি সদস্যকে ধরিয়ে দিতে গত ২৯ জুলাই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

তাদের ছবিসহ নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে এ ব্যাপারে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনার পর নিহতের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে শনাক্ত করা হয় নিহত যুবকই পুরস্কার ঘোষিত জেএমবি সদস্য বাইক হাসান। সে রাবি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত মোট ১১টি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। পুলিশ তাকে খুঁজছিল।

সঙ্গে থাকা পুরস্কার ঘোষিত জেএমবি সদস্য রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে শরিফুল ইসলাম ওরফে খালিদ একই হত্যা মামলার পলাতক আসামি।

শরিফুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সে প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ। গত ৪ জুলাই শরিফুলের সন্ধান চেয়ে বাগমারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তার বাবা। তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই যুবক নিহত হন। মহানগরীর মতিহার থানার আশরাফের মোড় এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল (শনিবার) সকালে মহনগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। তার গ্রামের বাড়ি বাগামারা উপজেলার দরগামারিড়ায়।

এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে নিহত শিক্ষকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এক জেএমবি সদস্যসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন হাফিজুর নামে এক শিবিরকর্মী মারা যায়।

এসএ/