ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জালিয়াত ও দুর্নীতির বরপুত্র কানুনগো মোহাম্মদ আলীর এবং তার পিতা-মাতার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অভিযোগ যাচাই বাছাই শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার কমিশন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে ডিএসসিসির চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক কানুনগো মোহাম্মদ আলীর এবং তার পিতা মো. নুর নবী চৌধুরী ও মাতা হাসিনা চৌধুরী মজিনার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত বছর ৯ এপ্রিল দুদকের উপ পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা মঞ্জুর আহমেদ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় এই সম্পদ বিবরণীর চেয়ে মোহাম্মদ আলী এবং তার পিতা-মাতার সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠান।

দুদকের ওই নোটিশ কানুনগো মোহাম্মদ আলী, তার পিতা ও মাতার বর্তমান ঠিকানা রাজধানী শ্যমলী উইন্টার হলিডে  রোড নং-২, প্লট নং-  ৩৫/এফ/৭, ফ্ল্যাট নং-এ/২ শেরে বাংলা নগর ঢাকা ঠিকানায় পাঠানো হয়।  একই সঙ্গে মোহাম্মদ আলীর স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার, চাটখিল উপ-জেলার পরানপুর গ্রামের ঠিকানায় পাঠানো হয়।

এ নোটিশের পর ডিএসসিসির কানুনগো মোহাম্মদ আলী ও তার পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সম্পদ বিবরণী দুদকের সচিবের দফতরে জমা দেয়া হয়। কিন্তু নানা কৌশলে মোহাম্মদ আলী ও তার পিতার মাতার  অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

অথচ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ঢাকা সিটি করপোরেশনের  বিভিন্ন মার্কেট অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ এবং দোকান বরাদ্দে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজে এবং আত্মীয় স্বজনদের নামে বেনামে অর্ধশতাধিক দোকান বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগও দুদকে রয়েছে।

এদিকে ২০১৩ সালের ১২ জুলাই দুদক চেয়ারম্যানের কাছে ঢাকা মহানগর কোতায়ালী থানা আওয়ামী লীগ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সবুজ লিখিতভাবে কানুনগো মোহাম্মদ আলী, তার পিতা মো. নুর নবী চৌধুরী, মাতা হাসিনা চৌধুরী মজিনা এবং স্ত্রী শামীমা আক্তার তানিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগ পত্রে তিনি ডিএসসিসির  কানুনগো মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের বিবরণ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও অভিযোগ করেন।

জসিম উদ্দিন সবুজ তার অভিযোগের অনুলিপি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডিএসসিসির প্রশাসক, ডিএসসিসির সচিব, ডিএমপি কমিশনার এবং র‌্যাবের ডিজির দফতরেও পাঠান।

তার অভিযোগে বলা হয়, মোহাম্মদ আলী চারদীয় জোট সরকারের আমলে নিজেকে সাবেক এমপি বরকত উল্লাহ বুলুর লোক পরিচয় দিতেন। পরে মহাজোট সরকারের আমলে নিজেকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সারধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ট লোক পরিচয় দিচ্ছেন।

এদিকে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর দুদকের কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর আহমেদ এবার মোহাম্মদ আলী এবং তার পিতা-মাতার সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠান।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী কানুনগো মোহাম্মদ আলী, চাকরির ৩ বছরের মাথায় অবৈধভাবে নিজের প্রমোশন ভাগিয়ে নেন।  ইতোমধ্যে প্রায় ৩ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে। আর প্রশসন এবং দুদকে ফাকিঁ দেয়ার জন্য মোহাম্মদ আলীর এসব সম্পদ তার পিতা, মাতা এবং নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের নামে রেখেছেন। এমনকি তার পিতা-মাতার নামে কোম্পানী তৈরি করে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তার গ্রামের বাড়ি পরানপুরে প্রায় ৫ কোটি  টাকা ব্যায়ে বিশাল ভবন তৈরি করেছেন। তিনি সাভারে ওয়াশিং ফ্যাক্টরী তৈরি করেছেন, ২টি প্রাইভেট কার ব্যবহার করেন।

একে