শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে কেন নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন।
মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির। শাহাদাতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জহিরুল আমিন।
মনিরুজ্জামান কবির জানান, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত শাহাদাতকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ নভেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা শাহাদাতের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন।
এর আগে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ১ ডিসেম্বর শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী জেসমিন জাহান নিত্যকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত জামিন দেন।
গত ৫ অক্টোবর শাহাদাত ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক ইউসুফ হোসেন জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকার মালিবাগের একটি বাসা থেকে শাহাদাতের স্ত্রী জেসমিনকে করে পুলিশ। গত ৬ সেপ্টেম্বর গৃহকর্মী হারিয়ে গেছে জানিয়ে শাহাদাত থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কয়েক ঘণ্টা পর ওই শিশুকে পাওয়া যায়।
পল্লবীর সাংবাদিক কলোনি থেকে ১১ বছর বয়সি ওই শিশুকে পেয়ে তাকে থানায় নিয়ে যান খন্দকার মোজাম্মেলক হক নামের এক সাংবাদিক। পরে শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়।
সাংবাদিকদের কাছে শাহাদাতের বাসায় নির্যাতিত হওয়ার বিবরণ দেয় শিশুটি। সাংবাদিক মোজাম্মেল এ ঘটনায় মামলা করলে নিরুদ্দেশ হন ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রী।
নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই শিশু গৃহকর্মী আদালতে বলেছেন, শাহাদাত রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে তাকে পিটিয়ে পরে আবার আঘাতের স্থানে বরফ লাগাতেন। চোখের উপর অংশে বেশ কয়েকবার বেলন দিয়ে পেটানো হয়েছে বলেও আদালতকে জানিয়েছে মেয়েটি।
এদিকে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় শাহাদাতকে জাতীয় দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
এমকে





