দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভেতরেই ডিজি এবং পরিচালকসহ ২১ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা রয়েছে। সেই সঙ্গে আরো অর্ধশতাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে দুদক।
কারণ যতই দিন যাচ্ছ, সরকারি দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি,সনদ ব্যবহার করে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা নেয়াসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা হচ্ছে। শুধু তাইনয় ,এ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অবৈধ সম্পদ আর ক্ষমতার দাপটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকই আজ কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন।
আর এ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ জালিয়াতি, নানা অপকর্ম,দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে নানা চাপের মধ্যে রয়েছে দুদক কর্মকর্তারা এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম প্রদীপ কুমার শর্মা,বিটিসিএল'র কর্মাধক্ষ্য মনজুর আহমেদ,পরিচালক আশরাফুল ও পরিচালক এম এ মালেকের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে দুদকে।
সম্প্রতি দুদকের উপ পরিচালক রাহিলা খাতুনকে সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম প্রদীপ কুমার শর্মা বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি , ওই সনদ ব্যবহার করে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগের সুনিদিষ্ট অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দিয়েছে দুদক।
এছাড়া দুদকের উপ পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে বিটিসিএল'র কর্মাধক্ষ্য মনজুর আহমেদ,পরিচালক আশরাফুল ও পরিচালক এম এ মালেকের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল এবং অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা নেয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দিয়েছে দুদক।
জানা যায়, দুদকের ভেতরেই রয়েছে ২১ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি,ওই সনদ ব্যবহার করে কেউ কেউ চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন এবং ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটায় মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ ব্যবহার করে দুদকে চাকরি নিয়েছেন।
গত ২২ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলীকে দুদকের ভেতরের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য দুদকের ১২ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন; সহকারি পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান,ফারুক আহমেদ, মো. আতিকুল আলম, জুয়েল আহমেদ, মঈনুল হাসান, এহসানুল কামরান তানভীর, আতিকুর রহমান, মো. শাওন মিয়া, নাজমুল আহসান, উপ-সহকারি পরিচালক মাহফুজ ইকবাল, নিয়ামুল আহসান গাজী এবং মো. সাইদুজ্জামান।
এছাড়া দুদকের আরো ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছেন উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলী। এ ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে রয়েছেন,মহাপরিচালক (ডিজি) কামরুল হোসেন মোল্লাহ,রিচালক গোলাম ইয়াহিয়া, পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া , উপ-পরিচালক ঢালী আবুদস সামাদ, উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী ও সাবেক উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার, সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী ( পুলিশের এএসআই) নুরুল ইসলাম ও কোট সহকারী পুলিশের এ এসআই ইসহাক ফকির।দুদক পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া ২ বছর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। ইতোমধ্যে তার এক বছর অতিরিক্ত চাকরি করেছেন সেই সঙ্গে আরও সুবিধা অনুযায়ী নিচ্ছেন।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে আরো ৬ সচিবসহ ডজন খানিক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা ও মুক্তি যোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহনের অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়েছে দুদকন।
এর মধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব একেএম আমির হোসেন, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক ডিজি শহিদুল্লাহ অন্যতম।
জানা যায়, গত বছর দুদকের এ অনুসন্ধানী কর্মকর্তা জুলফিকার আলী আরো ৪ সচিবের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগের প্রতিবেদন দাখিল করেন। আর তার এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সরকার ওই সচিবদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করেছে। আরো কয়েক জনের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।
একে





