রাজধানীর পল্লবীতে ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে ৭ একর জমি বরাদ্দে দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলার পুন: তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের উপ-পরিচালক হামিদুল হাসান শিগগিরই এ মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছন বলে জানা গেছে।
সদ্য অবসরে যাওয়া এ মামলার তদন্ত কর্মকতা পরিচালক যতন কুমার রায়ের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ রেখেছেন।
তিনি গত ৮ নভেম্বর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু কমিশন ওই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে মামলার পুন: তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা যায়, সদ্য বিদায়ী তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় তার তদন্ত প্রতিবেদনে আসামি করেছেন ,সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীমির্জা আব্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পরিচালক মেহেদী হাসান, সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট) ও গৃহায়ণের বর্তমান সদস্য মোঃ আজহারুল হক।
তবে এ প্রতিবেদনটি প্রায় দেড় মাস কমিশনে পড়েছিলো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। শেষ পর্যন্ত কমিশন মামলাটি পুন:তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত নথিপত্র হাতে পাননি বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ৬ মার্চ দুদকের তৎকালিন উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন।
এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট) মোঃ আজহারুল হক, কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং হিসাবরক্ষক মতিয়ার রহমান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে প্রায় ৭ একর বরাদ্দ দেয়া হয়।
তখন জমির বাজার মূল্য ছিল ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা । এর ফলে সরকারের ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
৮ মাস ধরে মামলাটির তদন্ত হয়। মামলায় মির্জা আব্বাসকে আসামি করা না হলেও তদন্ত পর্যায়ে তার সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে।
তাকে দু’দফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। আলমগীর কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি দুদকে হাজির হননি। তদন্ত পর্যায়ে কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলমকে আসামি থেকে বাদ দেয়া হয়।
একে/এসএইচ





