বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে প্রয়োজনে তদন্ত পর্যায়ে তলব করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে নিয়মিত মাসিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে দুদক পরিচালক নূর আহম্মদ এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের পরিচালক নূর আহম্মদ বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যে অনুসন্ধান করেছি তাতে বাচ্চুর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এখনো মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হয় নাই্।তদন্ত পর্যায়ে প্রয়োজন হলে প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে অবশ্যই তলব করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বাচ্চুর সম্পৃক্ততা মিললেও দুদকের অনুসন্ধানে কেন তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওই কথা বলেন।

বেসিক ব্যাংকের আসামিদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে নূর আহম্মদ বলেন, এখন পর্য্ন্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সেপ্টেম্বরের ২১, ২২ ও ২৩ তারিখে মোট ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে ৫৬ মামলা দায়ের করলেও আসামি করা হয়নি প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদকে।

দুদক নিজেদের নিয়ে কবে গণশুনানি করবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে দুদক মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন বলেন, এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।শিগগিরই দুদককে নিয়ে গণশুনানি আয়োজন করা হবে।

আসামিরা দুদকের মামলায় খালাস পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু তদন্ত কিংবা আইনজীবীর ঘাটতি নয়, আমাদের বেশকিছু প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রয়েছে।যেমন- আমাদের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট নেই, কোর্টে কোনো নিজস্ব অফিস নেই এবং সাক্ষীদের সময় মতো আদালতে হাজির করতে না পারা ইত্যাদি কারণে অনেক সময় আসামিরা ছাড় পেয়ে যায়।’

মাসিক ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন দুদকের পরিচালক মো. বেলাল ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টচার্য্য।

মাসিক ব্রিফিংয়ে জানুয়ারি মাসের বেশ কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়।গত সেপ্টেম্বর মাসের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুদক মহাপরিচালক শামসুল আরেফিন বলেন, এ মাসে মোট ৬২৮টি অভিযোগ পাওযা গেছে।এর মধ্যে ৪৪টি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।এ মাসে মোট ৩১টি মামলা হয়েছে ও ৪২ মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

এমই