অতিরিক্ত ভোগ বিলাসের মানসিকতা এবং সামাজিক বন্ধনগুলো শিথিল হয়ে যাওয়াতে কিশোর কিশোরী এবং তরুণ তরুণীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতা বোধ। আর এতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা।
এমন মত দিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে বাস্তববাদী ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে। আর এই উদ্যোগ নিতে হবে ছেলেবেলা থেকেই।
মুঠোফোনে বেশি কথা বলার জন্য রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর রাজারামপুরের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিউলি রানীকে বকাঝকা করেন বড় ভাই। ক্ষোভ-অভিমানে গত ৫ই জুন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
এরকম এক দু'জন নয়। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে আত্মহত্যা করেছে ত্রিশ জন যাদের সবার বয়স ১৫ থেকে ২৫ এর মধ্যে। আর এদের মধ্যে ২২ জন কিশোরী। অথচ ২০১৩ সালে পুরো বছরে সারাদেশে এই সংখ্যা ছিলো ২৭। ২০১২ সালে ছিলো ১৯।
আত্মহত্যার কারণ হিসেবে দেখা গেছে পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকা, উত্যক্ততার শিকার হওয়া এবং নিজের অমতে বিয়ে দেওয়া ইত্যাদি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক মো. শাহীনুর হোসাইন বলেন, 'এ বয়সে মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাটা কম থাকে। ফলে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।'
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবর্তিত সামাজিক ব্যবস্থার কারণে তরুণ-তরুণীরা বেড়ে উঠছে অনেকটাই সমাজ বিচ্ছিন্নভাবে। ফলে কোনো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়লে তা থেকে বের হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে না তারা।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দীন আহমেদ বলেন, 'যখন সমাজে খুব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, দ্রুত সব পরিবর্তন হয় তখন এক ধরনের আদর্শহীনতা তৈরি হয়ে যায়। সে সময় আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।'
এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলোকে মজবুত করার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে শিশুদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তারা।
যেকোনো ধরণের মানসিক সমস্যাকে লুকিয়ে না রেখে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কিংবা প্রয়োজনে মনোচিকিৎসকের কাছে যাওয়ারও পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





