মোবাইলপার্টি বাংলাদেশের অপরাধ জাগতের নতুন একটি নাম। যারা গভীর রাতে মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে কল দিয়ে বিভিন্ন লোভনীয় অফার দেওয়ার নাম করে অথবা 'আমি সপ্তম আসমান থেকে বলছি' এমন সব কথা বলে প্রতারণা করে।
এই মোবাইল পার্টিরা দেশের বিভিন্ন মাজারগুলোতে বসে এই অপরাধ করছে।
শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপি যুগ্ম-কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে এ সকল কথা বলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, 'আগে যারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে ঘুরে বিভিন্ন ধরণের তাবিজ, ঔষধ বিক্রি করতো, তারা যখন দেখলো তাদের এই ব্যবসায় ভালো কিছু করতে পারছেনা। তখন তারা তাদের প্রতারণার ধরণ পাল্টে মোবাইলে সাধারণ মানুষদের প্রতারণা শুরু করছে।'
তিনি আরো জানান, এই চক্রটি মাজারগুলোতে বসে রাতের বেলায় অপরিচিত নম্বরগুলোতে কল করে বলে আমি গ্রামীণ ফোন অফিস থেকে বলছি বা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কম্পানির নাম বলে থাকে।
তারা বলে, আমারা গত ছয় মাসে ১০/২০ জন ইউজারদের পুরস্কৃত করেছি, সেই ভাগ্যবানদের মধ্যে আপনিও একজন, আপনার নামে ৫ লক্ষ টাকা বা একটি গাড়ি রাখা হয়েছে।
তবে সেজন্য আমাদের এই নম্বরে ৫'শত টাকা বিকাশ করতে হবে। অথবা আমি সপ্তম আসমান থেকে বলছি তোর সামনের দিনে খুব খারাপ কিছু ঘটতে পারে। এজন্য আল্লার রাস্তায় ১ লক্ষ টাকা দান করলে তোর এ শনি কাটিয়ে উঠবে।
যুগ্ম-কমিশনার আরো বলেন, এক্ষেত্রে তারা খুব সতর্কতা অবলম্বন করে এবং তারা কথা বলার সময় গম্ভীরভাবে কথা বলে। আর তারা একটি নম্বরে একদিনের বেশি কল করেনা।
তিনি আরো জানান, এই প্রতারক চক্রের অবস্থান আমরা জানতে পারেছি। তারা বিভিন্ন মাজারে অবস্থান করে এই অপরাধ ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে তারা ফরিদপুর আটরশি মাজার থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। উপযুক্ত প্রমাণ মিললে আমরা তাদের গ্রেফতার করবো।
মনিরুল ইসলাম আরো জানান, এ বিষয়ে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো এই অপরাধীদের গ্রেফতার করে যে মামলায় তাদের শাস্তি দেওয়া হয় তা জামিন যোগ্য। তাই তারা ছাড়া পেয়ে আবারো একই কর্মে লিপ্ত হয়ে পরে।
তিনি আরো জানান, তাদের জন্য নতুন কোন আইন করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা এরকম আর কোন অপরাধে জড়িয়ে না পরে।
এআই/এসএইচ/ইআর





