মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালঅভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। পাঁচ আসামির মধ্যে গ্রেফতারচারজনকে বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

শুনানিতে অংশ নেন— প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম, সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর তাপসকান্তি বল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন ও মোখলেসুর রহমান বাদল। অপরদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট শিশির মুনির ও তরিকুল ইসলাম।

প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচজনের অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে আব্দুল কুদ্দুসের জামিন আবেদন শুনানি হয়। জামিন আবেদন করেন আইনজীবী তারিকুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে এখন পর্যন্ত কারাগারে আছেন— আমীর আহম্মেদ ওরফে আমীর আলী, মো. ইউসুফ, মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. আব্দুল কুদ্দুস। অপরদিকে, এ মামলায় এখনো গ্রেফতার করা যায়নি আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুরকে।

নোয়াখালীতে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ১৬ নভেম্বর তদন্ত শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট শেষ হয়। ওই দিনই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছেজমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় নোয়াখালীর সুধারাম থানায় ১১১ জনকে গণহত্যাসহ তিনটি অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৫ জুন নোয়াখালীর সুধারামে ৪১ জনসহ শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা-গণহত্যায় নেতৃত্ব দেন পাঁচ আসামি। এ ছাড়া একাত্তরের ১৩ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হত্যা-গণহত্যায় নেতৃত্ব দেন আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী, আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর ও মো. জয়নাল আবেদিন।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৩ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নয়জনকে হত্যা-গণহত্যায় নেতৃত্ব দেন আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী, আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর ও মো. ইউসুফ।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী ও আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর সকল অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মো. ইউসুফ ও মো. জয়নাল আবেদিন দুটি এবং মো. আব্দুল কুদ্দুস একটি ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

কেএইচ