অর্থপাচার সংক্রান্ত কোন ঘটনা কিংবা অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষায়িত গোয়েন্দা বিভাগ সিআইসিকে (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)।
ফলে এখন থেকে আয়কর, ভ্যাট কিংবা শুল্কসহ যে কোন বাণিজ্য সংক্রান্ত অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে সিআইসি। সমপ্রতি এনবিআরের শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারণী সভা বা বোর্ড সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এ ঘোষণা আসে এনবিআর থেকে।
এনবিআরের নির্দেশনায় ২০১২ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের (২০১৫ সালে সংশোধিত) সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, ‘তদন্তকারী সংস্থা’ হিসেবে এ ধরণের অপরাধ অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্বে সিআইসিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
২০১৫ সালের অর্থপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত সংশোধিত আইনে এ ধরণের অপরাধ তদন্তের দায়িত্বে এনবিআর ও পুলিশ প্রশাসনকেও যুক্ত করার বিষয়টি আনা হয়। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এককভাবে এ ধরনের অপরাধের তদন্ত করে আসছিল।
তবে এনবিআর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করে আসছিল।
এনবিআরের একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ কেবল শুল্ক সংক্রান্ত অর্থ পাচারের অভিযোগেরই অনুসন্ধান করে আসছিল।
এছাড়া আয়কর ও ভ্যাটের সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও নিজেস্ব রুটিন কাজে ব্যস্ত থাকায় আলাদাভাবে এ ধরনের অভিযোগে তদন্ত কিংবা অনুসন্ধান করার সুযোগ পাচ্ছিল না। ওইসব অফিসের এ ধরনের দক্ষ জনবল, কারিগরি জ্ঞান কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও ছিল না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের বিশেষায়িত গোয়েন্দা বিভাগ সিআইসিকে এ দায়িত্ব দেয়া হলো। এখন থেকে আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, এর বেশিরভাগই বাণিজ্যের আড়ালে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি’র (জিএফআই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এর মদ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ অর্থই পাচার হয়েছে বাণিজ্যের আড়ালে।
এমএনজে





