মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিজিপি’র সদস্যরা চোরাকারবারিদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতার কারণে নানা ব্যবস্থা নিয়েও বাংলাদেশে ইয়াবা'র পাচার রোধ করা যাচ্ছে না।
এমনকি মিয়ানমার সীমান্তে গড়ে ওঠা ইয়াবার কারখানাগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়ার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ অবস্থায় ইয়াবার কারখানা বন্ধের পাশাপাশি পাচার বন্ধে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে অনেকটা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষতিকর ইয়াবা। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে ইয়াবা প্রবেশের পর কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে তা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো দেশে। লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় মিয়ানমার সীমান্তে একের পর এক গড়ে উঠছে ইয়াবা কারখানা। আর তাতে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডি আই জি শফিকুল ইসলাম বলেন, 'যেভাবে তারা সীমান্তের কাছাকাছি এসমস্ত কারখানা তৈরি করেছে। তাতে বোঝা যাচ্ছে কারো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে মাদক কারখানা গড়ে তুলা সম্ভব না।'
টেকনাফ ৪২ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ বলেন, 'যে লোকগুলোকে আমরা ধরে থাকি। তাদের সঙ্গে আমরা যখন কথা-বার্তা বলি তখন তারা আমাদের বলে, হ্যাঁ ওই পাশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তারাই এখানে পাঠায়।'
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের আগের পতাকা বৈঠকগুলোতে ইয়াবা পাচারে মিয়ানমার বাহিনীর জড়িত থাকার বিষয়টি বিজিবি তুলে ধরে। কিন্তু ইয়াবা পাচার বন্ধে মিয়ানমার বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
টেকনাফ ৪২ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ বলেন,
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের বিজিবি'র পক্ষ থেকে তাদের সমস্ত কারখানা কারা চালাচ্ছে সেখানে কী উৎপাদন হচ্ছে সমস্ত তথ্যগুলো দেয়া হয়েছে। তারা কথাও দিয়েছেন এগুলো বন্ধ করে দেবেন। কিন্তু এই ধরনের কোনো তৎপরতা এখন পর্যন্ত আমরা লক্ষ্য করছি না।'
সম্প্রতি ইয়াবা পাচার রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখায় মিয়ানমার বাহিনী তুলে নিয়ে যায় বিজিবি’র নায়েক আবদুর রাজ্জাককে।
এ অবস্থায় ইয়াবা পাচার বন্ধের জন্য মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কথা বলছেন সাবেক মিয়ানমারে নিযুক্ত সাবেক কূটনীতিক মেজর অব. এমদাদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'মিয়ানমারকে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের বলতে হবে যে, তোমাদের এই বিষয়টাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি না এটাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছি।'
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে বিজিবি ৪৫ লাখ পিস, আর গত ৬ মাসে র্যাব ২২ লাখ পিস ও নৌ-বাহিনী ১৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
জেআই





