প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে রাজউকের প্লট জালিয়াতির ৩ মামলায় দুদকের চার্জশিটে আসামির তালিকায় রয়েছে তার মা জাকিয়া আমজাদ,স্ত্রী অধ্যাপিকা আয়েশা খানম,সাবেক রাজউক সচিব আতাউল হক মোল্লা ও তার স্ত্রী কামরুণ নাহার ঝর্ণা বেগম এবং উপ-সচিব মোহাম্মদ মুসা।
শিগগিরই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ তদন্ত শাখায় তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিচালক যতন কুমার রায়ের সুপারিশসহ তৈরি করা তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই বাছাইয়ের জন্য জমা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে রাজউকের ৩টি প্লট জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুদক গত ২২ এপ্রিল মতিঝিল থানায় ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় ৩ টি মামলা দায়ের করে। দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় টানা ৪ মাস ওই মামলা ৩টির তদন্ত প্রতিবেদনে (প্রস্তাবিত চার্জশিটে) নতুন আসামিদের নাম ঠিকানাসহ বেশ কিছুও সুপারিশমালা রেখেছেন।
সচিব শওকতের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির মামলার তদন্তকালে দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায় রাজউকের তৎকালিন (সাবেক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নূরুল হুদা, সাবেক চেয়ারম্যান শহিদ আলম, সাবেক সদস্য মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার , আখতার হোসেন ভুইয়া (সদস্য-এস্টেট ), এম. মাহবুব উল আলম (সদস্য-উন্নয়ন), নাজমুল হাই (সদস্য-প্রশাসন ও ভূমি), শেখ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান (সদস্য-পরিকল্পনা), উপ-পরিচালক (এস্টেট-২) মোহাম্মদ মুসা, রাজউকের সাবেক সচিব (বর্তমানে আরইবি’র সদস্য) আতাউল হক মোল্লা, সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট-২) বর্তমানে আসামি ড. শওকত হোসেনের অধীনে কর্মরত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ মুসাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেনে। আর জিজ্ঞাসাবাদকালে রাজউকের ওই কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সুবিধাভোগী সচিব শওকত হোসেন,তার মা জাকিয়া আমজাদ,স্ত্রী অধ্যাপিকা আয়েশা খানম,সাবেক রাজউক সচিব আতাউল হক মোল্লা ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার ঝর্ণা এবং উপ-সচিব মোহাম্মদ মুসার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। যার ফলে চার্জশিটে সম্ভাব্য আসামির তালিকায় তাদের নাম করার সুপারিশমালায় থাকছে।
৯ নম্বর মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসছে, সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন ২০০১ সালে উত্তরা সম্প্রসারিত প্রকল্পে সেক্টর-১৭/বি, রোড-৪/এ ৩ কাঠার পরিবর্তে ৫ কাঠা বরাদ্দ নিয়ে তা থেকে ২ কাঠা উপহার দেন তৎকালিন রাজউক সচিব আতাউল হক মোল্লাকে। শওকত হোসেন কৌশলে আতাউল হকের স্ত্রীর বড়বোন সুরাইয়ার নামে ২ কাঠা ‘ক্রয়’দেখান। পরে বড় বোনের কাছ থেকে ছোট বোন ঝর্ণাকে ‘হেবা’দেখান। যা বর্তমানে ভোগ-দখল করছেন আতাউল হক নিজেই। এ কারণে আসামি শওকতের সঙ্গে চার্জশিটে জড়িয়ে যাচ্ছেন আতাউল হকের স্ত্রী কামরুন নাহার ঝর্ণা। তবে ঝর্ণার বোন সুরাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও তিনি ইন্তেকাল করায় আসামি করা যাচ্ছে না।
এদিকে ৮ নম্বর মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্পের ১৪ নম্বর সেক্টরে ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের মা জাকিয়া আমজাদ প্রথমে এক ব্যক্তির লিজপ্রাপ্ত ৩ কাঠার প্লট ক্রয় করেন।পরে ওই প্লট বিমান উড্ডয়ন জোনের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে অন্যত্র ৫ কাঠার প্লট বরাদ্দের জন্য জাকিয়া আমজাদ রাজউকে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সচিব শওকত হোসেনের মাকে ১৩ নম্বর সেক্টরে ৫ কাঠার একটি প্লট দেওয়া হয়।
১০ নম্বর মামলার অভিযোগে বলা হয়, পূর্বাচল প্রকল্পে ২০০৪ সালে সচিব শওকত হোসেনের স্ত্রী ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আয়েশা খানমের নামে সাড়ে ৭ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ওই প্লটটি প্রথমে ১০ কাঠা এবং পরে আবার সাড়ে ১২ কাঠায় উন্নীত করেন। অথচ রাজউকের বিধি অনুযায়ী, প্লট পরিবর্তন করে ওপরের স্তরে বরাদ্দ করার এবং প্লটের আয়তন বাড়ানোর কোনো নিয়ম নেই।
ঢাকা, একে, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





