ভারতে গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জের  সেভেন মার্ডারের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের কাছে জামা কাপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছে দিতেই এম এ রহমান ও নূরে আলম খান কলকাতা যাচ্ছিলেন। আর যাওয়ার পথেই প্রাইভেট কারটি রাজধানীর মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায় বলে জানা যায়।

পরে মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধার হওয়া পিস্তল, জামা কাপড় ও কিছু কাগজপত্র দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় তারা  নূর হোসেনের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যই তারা  ভারত যাচ্ছিল।

কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি আব্দুল মজিদ সাঙবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার বিকেলে প্রাইভেটকার যোগে এম এ রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলম খান ও জাকির নামের ৩জন দ্রুত গতিতে মালিবাগ রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় চলন্ত ট্রেনে ধাক্কা খায়। এতে করে ওই প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। আহত হয় চালকসহ ৩জন। কিন্তু দুর্ঘটনার পরপরই আহতরা পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ প্রাইভেট কার থেকে নতুন পাজামা, পাঞ্জাবী, কাগজপত্র, একটি ৭ দশমিক ৬৫ পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, দশমিক ২২ বোর রাইফেলের ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। শনিবার পুলিশ অস্ত্রের নম্বর ও লাইসেন্স মিলিয়ে নিশ্চিত হয় পিস্তলটি নারায়ণগঞ্জের  সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের।

তিনি বলেন, কলকাতায় নূর হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে তার লোক কলকাতায় আসবে। তার সেই বক্তব্য ও প্রাইভেট কারে উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রে আমরা নিশ্চিত হয় পুলিশ।সিদ্ধিরগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলম খান আলোচিত নূর হোসেনের শ্যালক।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় মোট দু’টি মামলা হয়েছে। মামলায় দু’জন এজাহার ও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এর মধ্যে এম এ রহমান অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর নূরে এ আলম খান পলাতক রয়েছেন।
এছাড়াও ওই প্রাইভেট কারে থাকা জাকির নামের আরও একজনের নাম পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে এম এ রহমান সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে পুরো বিষয় পরিষ্কার হওয়া যাবে।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি নূর হোসেনের যে দু’টি পিস্তলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না সেটির মধ্যে একটি আমরা উদ্ধার করেছি। বাকি দশমিক ২২ বোরের রাইফেলটিও তাদের নিকট রয়েছে। কেননা সেটির আমরা গুলি উদ্ধার করেছি। তারা ওই ২২ বোরের রাইফেলটি নিয়ে গেছে। সেটিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা, ৩ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম/ একে