কাউকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলার আগেই প্রচারের উদ্দেশে মিডিয়ার সামনে হাজির করা যাবে না।’ হাইকোর্টের এমন নির্দেশ মানছে না পুলিশ বা র্যাব। ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর গাজীপুরে চার জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক মামলায় রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন অভিমত (পর্যবেক্ষণ) প্রকাশ করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘প্রচারের জন্য কোনো আসামিকে গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে আদালতে হাজির করার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে তাকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা থেকে নিজেদের বিরত রাখে―সেজন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন বলে আশা করছি।’
কিন্তু, দেখা যাচ্ছে পুলিশ ও র্যাব আসামিকে গ্রেফতার বা আটক করেই সেটা প্রচারে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকছেন। অনেক সময় গ্রেফতারকৃতদের মিডিয়ার সামনেও হাজির করা হচ্ছে। পত্রিকা ও টিভি ক্যামেরাম্যানদের ছবি তোলার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে যা মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কাজকে আদালতের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা।
তারা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার আগেই কোনো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড বা ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে সরাসরি মিডিয়ার সামনে হাজির করে দোষী সাব্যস্ত করার এক ধরনের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে বিচারের আগেই একজন জনসম্মুখে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যান।
এদিকে, রাজধানীতে দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মা মাহফুজা মালেক জেসমিনকে অন্য কারো সঙ্গে ‘খারাপ সম্পর্ক’ রয়েছে কি না―তা স্বীকার করাতে র্যাব চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে তিনি গতকাল আদালতে বিচারকের প্রশ্নোত্তরে জানিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর হাকিম আলমগীর কবির রাজের প্রশ্নের জবাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহফুজা বলেন, ‘দুই সন্তানের জন্য তার কষ্ট হয়। আমি ক্রোধের বশে এ হত্যাকাণ্ড করি। এ কাজের সময় আমার মাথা ঠিক ছিল না।’
রামপুরায় দুই সন্তানকে হত্যা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনবিদ শাহদীন মালিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, মামলা হওয়ার আগেই দুই শিশুর বাবা, মা ও খালাকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংবাদ সম্মেলন ডেকে স্বীকারোক্তির কথা প্রচার করা আইনগত ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা হাইকোর্টের নির্দেশনার বরখেলাপ। হাইকোর্ট ইচ্ছে করলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও যদি প্রশাসন তা ভঙ্গ করে সেটা অমার্জনীয় অপরাধ হবে। এটা আদালত অবমাননাও বটে।





