আঠারো বছর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জমির বিরোধে তিন ভাইকে হত্যার ঘটনায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাঙ্গুনিয়ার জঙ্গল সরফভাটা এলাকার মো. হাসান, তার ছেলে আবুল মনছুর, হাসানের ভাইপো জাহেদুল্লাহ ও মো. শহীদুল্লাহ। এদের মধ্যে হাসান ছাড়া বাকিরা পলাতক।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি স্বরূপ পাল বলেন, সরফভাটা ইউনিয়েনর বদুনি বাপের বাড়ি এলাকায় মরিচ ক্ষেতের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৯৮ সালে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

“কিরিচ, তলোয়ার, দা, বটি, ছুরি নিয়ে হামলা করে একসঙ্গে তিন ভাইকে হত্যা করা হয়।”

নিহতরা হলেন- মো. জসিম উদ্দিন (৩০), অনোয়ারুল ইসলাম (৩২) ও সফিউল আলম (৩৯)।

তারা সরফভাটা এলাকার খায়রুজ্জামানের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতদের আরেক ভাই মাহবুব আলম বাদি হয়ে মামলা করেন।

৩০২ ধারায় করা অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এরমধ্যে হাসান ও মনছুরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পিপি স্বরূপ পাল।

তিনি বলেন, মামলায় আরও ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। এ মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

১৯৯৮ সালের ৬ জুন মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০১ সালে মামলার বিচার শুরু হয়।

রাঙ্গুনিয়ার জঙ্গল সরফভাটা এলাকায় পাহাড় সংলগ্ন জমি নিয়ে বদুনী বাপের বাড়ি ও পার্শ্ববর্তী গনজম আলী সরকারের বাড়ির মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের।

১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই জমি নিয়ে বিরোধে মোট নয়জন খুন হয়েছেন। ১৯৯৩ সালে প্রথম খুন হন আবুল হোসেন সওদাগর।

১৯৯৮ সালে দেশে ফেরেন মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী তিন ভাই জসিম উদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম ও সফিউল আলম। আবুল হোসেন খুনের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হন এই তিন ভাই।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী মো. ইদ্রিছকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

চলতি বছরের ১ মার্চ গনজম আলী সরকার বাড়ির উকিল আহমদ ও তার ছেলে ইসমাইল খুন হন।

সবশেষ ২৫ এপ্রিল মো. মনজু ও কাশেম নামের দুই জনকে গুলি কর ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তারা উকিল আহমদ ও ইসমাইল খুনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এমই