অব্যাহত অভিযান, আত্মসমর্পণ ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের পরও থেমে নেই মাদক চোরাচালান। ভোল পাল্টে হেরোইন মরফিনসহ ইয়াবা বেচাকেনা করছেন চোরাকারবারিরা।
সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযানকালে ২৩৩ জন নিহত এবং ৪৮ হাজার গ্রেফতার হয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও অভিযান চলছে।
এরপরও বন্ধ হয়নি মাদক বেচাকেনা। কৌশল পাল্টে দুর্বৃত্তরা কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দাম নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি।
রাজধানীর তেজগাঁও রেলস্টেশন বস্তি ও মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে এখনও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে আগের মতো হাঁকডাক দিয়ে নয়, পরিচিত গ্রাহকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে মাদক।
মোবাইল ফোনে কিংবা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অর্ডার করলে গ্রাহকের বাসায় ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। পুলিশ, র্যাব যাতে ক্রেতা সেজে ফাঁদে ফেলতে না পারে, সেজন্য এ পদ্ধতি চালু করেছে মাদক বিক্রেতারা।
সামাজিক কাজ ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা গেলে তরুণেরা মাদকের দিকে ঝুঁকবে না বলে মনে করেন মনঃচিকিৎসক। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে মাদক ব্যবসা।
২০১৮ সালের মে থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধে সারাদেশে ইয়াবা সম্রাটসহ ৩২১ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। আর আত্মসমর্পণ করে ১০২ জন।
র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে চোরাকারবারিরা কিছুটা ভীত হলেও ভিন্ন কৌশলে ব্যবসা করছে অনেক মাদক কারবারি।
৩ মাস আগে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসে এই ভুক্তভোগী। প্রতিদিন ২৫ টি করে ইয়াবা লাগতো তার। চলমান অভিযানে ইয়াবা কেনার সময় কৌশলী হওয়ার কথা জানায় সে।
এক ভুক্তভোগী বলেন, 'সংখ্যাটা একটু কমছে, তার মানে এই নয় যে তারা একদম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিছু সংকেতে কথা বলে যেমন, ৫ টা মানুষ লাগবে, তার মানে ৫ ইয়াবা লাগবে। অথবা ৫ কেজি চাল লাগবে এইভাবে তারা ব্যবসা চালায়।'
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে মাদকের মামলা হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। আসামি ধরা হয় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। ইয়াবা উদ্ধার হয় ৫ কোটি ৩১ লাখের উপরে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছর ৩ মাসেই দেশে মামলা হয়েছে ৩১ হাজার আর আসামি সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয় ৭৭ লাখের মত। দেশে এভাবে মাদক ঢুকলে বছর শেষে তা গত বছরকেও ছাড়িয়ে যাবে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড.মোহিত কামাল বলেন, 'আমরা যদি একটা ফ্লাটে একটু জায়গা রাখতে পারি, এবং আমাদের বাচ্চারা শিশুকাল থেকেই যদি ছুটো ছুটি করতে পারে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটবে। এবং শিশু বয়স থেকেই বাচ্চাদের সাথে বাবা মাকে কথা বলতে হবে। এবং এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।'
অধিদপ্তরের দাবি, আগের মত খোলামেলা ব্যবসা করতে পারছেনা ব্যবসায়ীরা। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি চলমান থাকবে বলে জানানো হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো.জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, 'এই বছর আমরা দেখেছি জব্দের পরিমাণ একটু হ্রাস পাচ্ছে।
তবে একেবারে শূন্য হয়ে যাইনি।ইতিমধ্যে মাদকের গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত অনেকেই আইনের জালে ধরা পড়েছে। '
কোন অবস্থাতেই মাদকের কাছে নতি স্বীকার নয়। মাদকাসক্ত কিশোর কিশোরী ফিরে আসুক সুস্থ জীবনে, এর ভয়াল থাবায় আক্রান্ত না হোক আর কোন যুবক এমন প্রত্যাশা সবার।
এএস





