৭১'এ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় ইব্রাহীম কুট্টির হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলার নথি দেখেছেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহাবুবে আলম । রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের কার্যক্রম সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে পৌনে ১টায় শেষ হয়।
খোজ নিয়ে জানা গেছে,প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৮ মে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের ব্রীজের ওপর পাকসেনাদের সহায়তায় সাঈদীর নির্দেশে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং এই অভিযোগেই তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
তবে সাঈদীর আইনজীবীর দাবি ইব্রাহীম কুট্টির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বাধীনতার ঠিক পরপরই স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে তার স্বামী হত্যার দ্বায়ে পিরোজপুর থানায় একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় হত্যাকাণ্ডের তারিখ দেখানো হয়েছে ১ অক্টোবর ১৯৭১ এবং ঘটনাস্থল হলো নলবুনিয়া ইব্রাহীমের শশুর বাড়ি যা প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগের সম্পূর্ণ বিপরীত।
মামলার আসামী হিসেবে অথবা পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্বামী ইব্রাহীম কুট্টির হত্যাকান্ডের জন্য স্ত্রী মমতাজ বেগমের করা মামলার এজাহারের কোথাও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই। পিরোজপুর থানায় দায়ের করা সেই মামলার নম্বর-৯। মমতাজ বেগমের করা ওই মামলায় অন্তত:৪জন আসামী বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন বলেও আসামী পক্ষের দাবি। পিরোজপুর আদালত থেকে মামলাটি পরবর্তীতে বরিশাল আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছিল।  
সাঈদীর পক্ষের আইনজীবীরা মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলার এজাহারের সার্টিফাইড কপি আগেই ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছিলেন। ওই কপিটিই রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যার্টনি জেনারেল মাহাবুবে আলম সুপ্রিমকোর্টের রেকর্ড রুমে গিয়ে দেখেছেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সকল মামলার রেকর্ড রুমে বসে মামলার নথি দেখার সময় অ্যার্টনি জেনারেল মাহাবুবে আলমের সঙ্গে ছিলেন, সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল বশির আহমেদ। অপরদিকে সাঈদীর দুই আইনজীবী এসএম শাহজাহান ও তানভীর আহমেদ আলআমিন উপস্থিত ছিলেন।  
নথি দেখার পরে সাঈদীর রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি খন্ডনের পরবর্তী দিন বুধবার ঠিক করেছেন।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি খন্ডন করেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহাবুবে আলম। তিনি মামলায় প্রসিকিউশনে আনিত ১৬ নং অভিযোগে গৌরাঙ্গ শাহার তিন বোনকে ধর্ষণের বিষয়ে সাক্ষীর পেশ করা জবানবন্দি উপস্থাপন করেছিলেন। পরে জবানবন্দি পাঠ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।
এর আগে গত ১ এপ্রিল সাঈদীর মামলায় ১৪ নং অভিযোগে মধুসুদন গরামীর স্ত্রীকে ধর্ষণের বিষয়ে যুক্তি খন্ডন শেষ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো.মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ যুক্তি শুনানির পর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেন।
গৌরাঙ্গ সাহার তিন বোনকে ধর্ষণের বিষয়ে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দির অংশ বিশেষ পাঠ শুরু করার পরে আদালতের কার্যক্রম শেষ করেন। সাক্ষীর জবানবন্দির অংশ পাঠ করার পরে এ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।
অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলমকে সহযোগীতা করেন অতিরিক্ত অ্যার্টর্নী জেনারেল এমকে রহমান,প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।
অপরদিকে,আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এসএম শাজাহান ও তানভীর আহমদ আল আমিন।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
প্রসিকিউশনের আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া সংক্রান্ত দুটি অভিযোগে সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।
কিন্তু আরও ছয়টি অভিযোগ তার বিরুদদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন যেহেতু তাকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সেহেতেু ওইসব অভিযোগে তাকে আর কোন দণ্ড দেয়া হয়নি।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৮ মার্চ আপিল করেন সাঈদী। অন্যদিকে,প্রমাণ হলেও দণ্ড না দেওয়া ছয় অভিযোগের শাস্তি চেয়ে  আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এছাড়া ট্রাইব্যুনাল যে ১২টি অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দিয়েছে, সেগুলোতেও আপিল আবেদনেও পূর্ণ ন্যায়বিচার চেয়েছে প্রসিকিউশন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়।
আপিল শুনানিতে সাঈদীর আইনজীবীরা মামলার রায়,উভয়পক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা উপস্থাপন শেষ করার পর গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
[b]ঢাকা, একেএ, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]