রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ৫৬টি ককটেল, ৮টি হাতবোমা, গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ মোঃ মানিক (২৮) নামে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব-২।

রোববার শেরে বাংলা নগরের নিউরো সায়েন্স হাসপাতারের সামনে থেকে ৯টি ককটেলসহ তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৭টি ককটেল উদ্ধারকরা হয়।

র‌্যাব-২ এর মহাপরিচালক লেফটেনেন্ট কর্ণেল কে এম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে কোন বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচী কে উপলক্ষ্য করে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি  করার জন্য বহু দিন ধরে ককটেল হাতবোমা ও পেট্রোল বোমা ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল কর্তৃক দেশব্যাপী ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতালে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন দুস্কৃতিকারীরা ককটেল,হাতবোমা,পেট্রোলবোমা ইত্যাদি তৈরী করে এবং এগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে ধংস্মাত্বক মূলক কাজ করার পরিকল্পনা করে।

তাদের এ ধরনের কর্মকান্ড সফল না করার জন্য র‌্যাব ব্যাটালিয়ন সমূহ প্রত্যেকের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আভিযানিক কর্মকান্ড আরো বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব- ২ এর একটি অভিয়ানিক দল আজ মধ্যরাতে শেরে বাংলা নগর নিউরো সাইন্স হাসপাতালের উত্তরে একটি নির্মানাধীন ভবন এর মধ্য থেকে প্রথমে ০৯ টি ককটেল ও ০৮ টি হাতবোমা উদ্ধারসহ  মোঃ মানিককে আটক করে।

উক্ত স্থানে ব্যাপক তল্লাশীর  পর নির্মানাধীন ভবনের কেয়ার টেকার ও আশেপাশের লোক জনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে উক্ত স্থানে গ্রেফতারকৃত মানিক ছাড়াও তার আরো দুই সহযোগী মাসুদ ও  মামুন কে একত্রে উদ্ধারকৃত নীল পলিথিন ব্যাগ সহ উক্ত ভবনে প্রবেশ করতে দেখেছে।

মানিককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বছিলা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় আরো ৪৭ টি ককটেল ও ককটেল তৈরীর অন্যান্য সরঞ্জমাদি উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত মোঃ মানিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায় যে, মোহাম্মদপুর থানার মামলা নং ৪২(২), ০২ নং হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত পলাতক আসামী ,বর্তমানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী আছে।

গ্রেফতারকৃত মানিককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, হরতালের সময় নাশকতা সৃষ্টি করাই ছিল তার কাজ। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ  করা হচ্ছে এবং এর  সাথে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জেইউ/ এআর/এসএইচ