লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমএম রানাকে দায়ী করে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে র্যাব।
এদের মধ্যে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ ও কোম্পানি কমান্ডার আরিফ নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়রসহ সাতজনকে অপহরণ থেকে শুরু করে শীতলক্ষ্যায় লাশ ডুবনো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন।
আর রানা অপহরণে অংশ নিয়ে ঘটনায় আংশিক জড়িত ছিলেন বলে র্যাবের এই অভ্যন্তরীণ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
এই তিনজনসহ র্যাবের মোট ২১ সদস্যের নাম এসেছে প্রতিবেদনে, যারা কোনো না কোনোভাবে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডে র্যাব সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার আট মাস পর বুধবার এই এলিট বাহিনীর প্রতিবেদন হাই কোর্টে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার হাতে এই প্রতিবেদন আসে গত ২৩ নভেম্বর।
পরে আদালতের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের কারা জড়িত, অপহৃতদের উদ্ধারে গাফিলতি ছিলো কিনা- এ বিষয়গুলো দেখতে আদালত এই অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল, এটি হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত প্রতিবেদন নয়।
“এই প্রতিবেদন বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। গোয়েন্দা পুলিশ যে চার্জশিট দেবে, যেভাবে আদালতে তুলবে, তার ভিত্তিতেই বিচার হবে।”
সাত খুনে জড়িত অন্য যাদের নাম র্যাবের প্রতিবেদনে এসেছে, সেই তালিকাও পড়ে শোনান অ্যাটর্নি জেনারেল।
“এরা হলেন- এসআই পূর্নেন্দু বালা, এবি আরিফ হোসেন, নায়েক নাজিম, নায়েক দেলোয়ার, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আব্দুল আলিম, সৈনিক আলামিন, সিপাহী তৈয়ব, কনস্টেবল সিহাবুদ্দিন, কনস্টেবল আলামিন, হাবিলদার এমদাদ, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সৈনিক আসাদ, সার্জেন্ট এনামুল, এএএসআই বজলু, হাবিলদার নাসির, সৈনিক তাজুল।”
নারায়ণগঞ্জের র্যাব-১১ তে কর্মরত এই র্যাব সদস্যের ‘উপস্থিত থেকে’ হত্যাকাণ্ডে ‘সহায়তা’ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম গত ২৭ এপ্রিল অপহৃত হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর পরপরই র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, র্যাব কর্মকর্তারা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলাও করেন তারা।
এরপর হাই কোর্ট র্যাব-১১ এর তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ ও রানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। ওই তিনজনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে এনে সামরিক বাহিনী থেকে অবসরে পাঠায় সরকার।
পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
র্যাব সদর দপ্তর ওই ঘটনা সম্পর্কে জানত কি-না এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমি এটা দাখিল করেছি, সদরদপ্তর জানত কি-না সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ার পরই তা বোঝা যাবে।”
জেআই





