ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সেই প্রভাবশালী,অস্বাভাবিক ক্ষমতাধর এবং বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক কানুনগো মোহাম্মদ আলী,তার পিতা মো. নুর নবী চৌধুরী ও মাতা হাসিনা চৌধুরী মজিনার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা মঞ্জুর আহমেদ আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় এই সম্পদ বিবরণীর নোটিশ পাঠান।দুদকের এই নোটিশ মোহাম্মদ আলী ও তার পিতা-মাতার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার শেরেবাংলা নগর রাজধানী শ্যমলী উইন্টার হলিডে রোড নং-২,প্লট নং ৩৫/এফ/৭,ফ্ল্যাট নং-এ/২ এ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তাদের স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার, চাটখিল উপজেলার পরানপুর গ্রামে পাঠানো হয়েছে।
জানাযায়,গতবছর ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর কোতায়ালী থানা আওয়ামী লীগ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সবুজ লিখিতভাবে কানুনগো মোহাম্মদ আলী,তার পিতা মো. নুর নবী চৌধুরী,মাতা হাসিনা চৌধুরী মজিনা এবং স্ত্রী শামীমা আক্তার তানিয়ার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের বিবরণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অভিযোগ করেন।
জসিম উদ্দিন সবুজ ওই অভিযোগের অনুলিপি দুদকের চেয়ারম্যান,এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সচিব,ডিএসসিসির প্রশাসক,ডিএসসিসির সচিব,ডিএমপি কমিশনার এবং র্যািবের ডিজির দফতরেও পাঠান।
অভিযোগে বলা হয়,মোহাম্মদ আলী চারদীয় জোট সরকারের আমলে নিজেকে সাবেক এমপি বরকত উল্লাহ বুলুর লোক পরিচয় দিতেন। মহাজোট সরকারের আমলে নিজেকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সারধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানকের ঘনিষ্ট লোক পরিচয় দিচ্ছেন।
এদিকে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর দুদকের কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর আহমেদ এবার মোহাম্মদ আলী এবং তার পিতা-মাতার সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠান।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে,তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী কানুনগো মোহাম্মদ আলী,চাকরির ৩ বছরের মাথায় অবৈধভাবে নিজের প্রমোশন ভাগিয়ে নেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে। আর প্রশসন এবং দুদকে ফাকিঁ দেয়ার জন্য মোহাম্মদ আলীর এসব সম্পদ তার পিতা,মাতা এবং নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের নামে রেখেছেন। এমনকি তার পিতা-মাতার নামে কোম্পানী তৈরি করে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করেন।
এতে বলা হয়েছে,তার গ্রামের বাড়ি পরানপুরে প্রায় ৫ কোটি ঠাকা ব্যায়ে বিশাল ভবন তৈরি করেছেন। তিনি সাভারে ওয়াশিং ফ্যাক্টরী তৈর করেছেন,২টি প্রাইভেট কার ব্যবহার করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের মার্কেট নির্মাণ এবং দোকান বরাদ্দের নামে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাইনয়,তার এবং আত্মীয় স্বজনদের নামে বেনামে অর্ধশতাধিক দোকান বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
[b]ঢাকা,একে, ৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]