অর্থ পাচার মামলার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে আবেদন খারিজ করে দেন।
খন্দকার মোশাররফের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী। আর দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
মোশাররফের আইনজীবী নিতাই রায় বলেন, ‘নিম্ন আদালতে ড. খন্দকার মোশাররফের অভিযোগ গঠন করা হয়। ওই আদেশ সঠিক হয়নি মর্মে আমরা হাইকোর্টে রিভিশনে আবেদন করেছিলাম।
কিন্তু আদালত সন্তুষ্ট না হওয়ায় আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছেন। পরে সময় বুঝে অন্য আদালতে আবেদন করব।’
এদিকে দুদকের আইনজীবী বলেন, এতে করে মোশাররফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ চলতে আর কোনো বাধা রইল না।
অভিযোগপত্র থেকে জানাযায়, ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মোশাররফের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। পরে একই বছরের ১৪ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে আইন পরিপন্থী কাজ করেছেন।
খন্দকার মোশাররফ ও তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনের যৌথ নামে যুক্তরাজ্যের লয়েডস টিএসবি অফশোর প্রাইভেট ব্যাংকে আট লাখ চার হাজার ১৪২ দশমিক ৪৩ ব্রিটিশ পাউন্ড (হিসাব নম্বর ১০৮৪৯২) জমা করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ নয় কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা।
ড. খন্দকার মোশাররফ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই টাকা পাচার করেন বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়।
২০১৪ সালের ১৩ মার্চ গুলশানের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আপিল বিভাগের দেওয়া শর্ত সাপেক্ষে জামিনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
এআই





