আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. খায়রুল হুদা আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
খায়রুল হুদা জানান, জাল সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এবি ব্যাংকের ৯ কোটি ২৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির ম্যানেজারসহ জালিয়াত চক্রের ১৬ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করা হয়। এ মামলার তদন্তে আরো পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। কিন্তু ব্যাংকটির ম্যানেজার এমএম আসিরুল ইসলাম মারা যাওয়ায় মোট ২০ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
মামলাটির অন্য আসামিরা হলেন- এবি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এমএম মাকছুদ মজুমদার,জালিয়াত চক্রের সদস্য আতিকুর রহমান,তৌহিদ মাহমুদ,নজরুল ইসলাম,আব্দুল খালেক ওরফে ওমর চন্দ্র দাস,আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা,মো. জামাল উদ্দিন হাওলাদার,মো. দুলাল হাওলাদার,জাকির শেখ,কাজী জসিমুল ইসলাম, কাজী জহিরুল ইসলাম,জাকির হোসেন,মো. শাহ আলম,তানভীর মাশফু,এইচ এম বারিক,আমিনুল ইসলাম,আইনুল হক,আসাদুজ্জামান মিঠু,মো. নুরুজ্জামান ফকির,মিসেস মুরশিদা আফরিন।
দুদক সূত্র জানায়,জালিয়াত চক্র নিজেদের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে খুলনা অক্সিজেন নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান খোলে। চক্রটি প্রতিষ্ঠানের নামে এবি ব্যাংক ধানমন্ডি শাখা থেকে ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সালের বিভিন্ন সময়ে ২০ কোটি টাকার জাল সঞ্চয়পত্রের বিনিময়ে ৯ কোটি টাকা উত্তোলন করে।
ব্যাংকের ম্যনেজারসহ ওই কর্মকর্তা সঞ্চয়পত্রগুলো যাচাই-বাছাই না করে নিজেরা লাভবান হওয়ার আশায় জালিয়াতি চক্রকে ধারাবাহিকভাবে ঋণ দিতে থাকে। জালিয়াত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঋণ উত্তোলনের পর ব্যাংকের এসব টাকা পরিশোধ না করে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করে।
এর আগে,তদন্ত শেষে মামলার এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিল করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানায় সুত্রটি।
[b]ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]