ঈদকে সামনে রেখে শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা প্রায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সীমান্তের চোরাচালানি ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার হয়ে আসছে।

জানা যায়, শার্শা ও বেনাপোলের বিভিন্ন চোরাচালানি সিন্ডিকেটগুলো প্রতিদিন শার্শা ও বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত পথে হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার করে নিয়ে আসছে।

সীমান্তের সাদিপুর, বড়আঁচড়া, দৌলতপুর, গাতিপাড়া, পুটখালি, অভয়বাশ, অগ্রভুলোট, কায়বা, রুদ্রপুর, শিকারপুর, কাশিপুর, শালখোনা, বাহাদুরপুর, ধান্যখোলা, ও রঘুনাথপুর চোরাচালানী ঘাট দিয়ে ফেনসিডিল আসছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, অবৈধ পথে ফেনসিডিল নিয়ে আসার পর বেনাপোলের ভবারবেড়, গাতীপাড়া, কাগজপুকুর, আমড়াখালি, শার্শা, গোড়পাড়া, কাশিপুর, নাভারন, উলাশী, জামতলা, সাতমাইল ও বাগআঁচড়ার বাগুড়ী বেলতলাসহ কয়েকটি পয়েন্টে তা মজুদ করা হয়। পরে সেগুলো সময় সুযোগ বুঝে বেনাপোল ও ভোমরা থেকে আসা আমদানিকৃত পণ্য বোঝায় ট্রাকে তুলে দেয়া হয়। ট্রাক ছাড়াও বাস, মোটর সাইকেল, প্রাইভেটকার, পাজারো জিপের মাধ্যমে ফেনসিডিল পাচার করা হয়ে থাকে।

এদিকে ফেনসিডিল পাচার হয়ে আসার পর বেনাপোল বন্দরের আশপাশ ছাড়াও ভবারবেড়, গাতিপাড়া, বেনাপোল চেকপোস্ট, শার্শা, নারায়ণপুর, গোড়পাড়া, নাভারণ ও বাগআঁচড়াসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এক বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকায়। বিশেষ বিশেষ উৎসবে এর দামও বৃদ্ধি পায় বলে কয়েকজন সেবনকারী জানান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন মোটর সাইকেল ও দামি গাড়ি নিয়ে এক শ্রেণীর তরুণ ও যুবকেরা ফেনসিডিল পান করতে এসব স্পটে আসতে দেখা যায়। অনেক মোটর সাইকেলে করে শরীরে বেঁধেও নিয়ে যায় ফেনসিডিল।

এ ব্যাপারে ২৬ বিজিবি বেনাপোল কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রফিকুল ইসলাম জানান, মাদক চোরাচালানীর সঙ্গে কোনো বিজিবি সদস্যের আপসের প্রশ্ন নেই। বিজিবি সীমান্ত থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য আটক করার রেকর্ড রয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, পুলিশ মাদক চোরাচালানি আটক করছে। মাদক উদ্ধারও করছে। মাদক বিরোধী অভিযান চারাচ্ছে প্রতিদিনই।

ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই