রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের ঘটনায় এমপি পুত্র বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আমিনুল হক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্যে সিএমএম আদালতে পাঠিয়েছেন।

এর আগে জুলাই মাসের ২১ তারিখে এমপি পুত্র বখতিয়ার আলম রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) ধীপক কুমার দাস।

পরে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আলোচিত জোড়া হত্যার ঘটনায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বখতিয়ার আলম রনি তার মায়ের গাড়ি ব্যবহার করে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েন। এতে ঘটনার দিন একজন এবং পরে আরো একজনের মৃত্যু হয়। কাজেই এ মামলায় শুধু তাকেই আসামি করা হয়েছে।

মনিরুল বলেন, ভিডিওচিত্র, ঘটনার সময় ব্যবহৃত গাড়ি, পিস্তল ও ভিকটিমের শরীরে পাওয়া গুলির ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ঘটনার পর গাড়িচালক ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। খুনের ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাড়িচালক ইমরান এ ঘটনার অন্যতম সাক্ষী। ঘটনার সময় গাড়িতে আরো তিনজন ছিলেন, তারাও আদালতে এসে সাক্ষী দিয়েছেন। এ ঘটনায় ৩০ জনেরও অধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বখতিয়ার আলম রনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে।

গত ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটনে মদ্যপ অবস্থায় রনি নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম গত ১৫ এপ্রিল রমনা থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৪ মে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩১ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে।

কেএইচ