বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হলফনামা আকারে সেই বক্তব্যের ব্যাখা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে ওই বক্তব্যের ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
সিলেটে বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করায় মির্জা ফখরুলের কাছে গত বৃহস্পতিবার ব্যাখ্যা চান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
ফখরুলের জামিন বিষয়ক শুনানি চলাকালে তাকে বক্তব্যের বিষয়ে আজ সোমবারের মধ্যে লিখিতভাবে এ ব্যাখ্যা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।
ফখরুলের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিয়ন জানান, সোমবার মির্জা ফখরুলের পক্ষে আইনজীবীরা বক্তব্যের ব্যাখা আদালতে দাখিল করলে আপিল বিভাগ মির্জা ফখরুলকে হলফনামা আকারে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা মঙ্গলবারের মধ্যে দাখিল করার আদেশ দেন।
মির্জা ফখরুলের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানিকালে আপিল বেঞ্চ এ ব্যাখ্যা জানতে চান।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, বিচার বিভাগেরও স্বাধীনতা নেই।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের সময় পল্টন থানার নাশকতার তিন মামলায় মির্জা ফখরুলকে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ্ আপিলে গেলে আপিল বিভাগ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। এবং জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। এছাড়াও হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন।
হাইকোর্ট গত বছরের ২৪ নভেম্বর রুল নিষ্পত্তি করে ওই তিন মামলায় মির্জা ফখরুলকে তিনমাসের জামিন দেন।
ফখরুলের আইনজীবীদের দাবি, রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণত মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন হয়। কিন্তু এখানে মাত্র তিনমাসের জামিন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে হাইকোর্টের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মির্জা ফখরুল গত ৭ জানুয়ারি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।
ওএফ





