ঢাকা: স্কাইপি’র কথোপকথন সংক্রান্ত বিষয়ে আনা আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছে লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ রোববার এ আদেশ দেয়।
আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে পত্রিকাটির সম্পাদক ও দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো চিফকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের কোন সদস্যের সাথে কোন সাংবাদিক সরাসরি বা ফোনে যোগাযোগ করতে পারবে না।
মামলা সংক্রান্ত কোন তথ্যের জন্য প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লি¬ষ্ট আইনজীবীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
আইন লঙ্ঘন করে বা অবৈধ উপায়ে কোন তথ্য সংগ্রহ করে তা গণমাধ্যমে প্রচার করা উচিত হবে না এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে খবর প্রকাশে সর্তক থাকতে বলা হয়।
আদেশ দেয়ার সময় ইকোনোমিস্ট পত্রিকার পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। গত ২ ফেব্র“য়ারি পত্রিকাটি ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খানকে তাদের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর তিনি ২৫ মার্চ পত্রিকাটির পক্ষে লিখিত জবাব দাখিল করে শুনানি করেন। অপরদিকে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর লন্ডনভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্টের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করার অভিযোগ এনে তার কারণ জানাতে নোটিশ দেয় তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক। নোটিশে পত্রিকাটির সম্পাদক রব ডি ফোর্ট ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ব্যুরো চিফ অ্যাডাম রবার্টের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়।
এরপর বাংলাদেশী প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি’র কথোপকথন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাসহ বেশ কিছু পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে নিয়োগ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনঃগঠন করা হয়।