রাজধানীতে মাংস ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রমজানে সরকারের বেঁধে দেয়া মাংসের দর মানছে না তারা। সিটি করপোরেশনের মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।
নগরীর অধিকাংশ ছোট-বড় মার্কেটে অধিকাংশ মাংসের দোকানেই মূল্য তালিকা টানানো নেই। এমনকি ডিজিটাল পাল্লাও নেই। মাংস ব্যবসায়ীদের এ বেপরোয়া কার্যক্রম এবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপ্রতিরোদ্ধ ভাবে চলছে। শুধু তাইনয় তারা মাংস ব্যবসায়ী সমিতির কেন্দ্রিয় নেতাদের নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত পর্যন্ত পাত্তা দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশী-বিদেশী সবগরুর মাংসের প্রতি কেজি ৩০০ টাকা,এমনি আলাদা মহিষের মাংস দেখা যায় না, ছাগী- খাঁসির মাংস ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর উল্লেখযোগ্য এলাকার মধ্যে কাপ্তান বাজার, শান্তিনগর বাজার, মগবাজার, মধুবাগ, নয়াটোলা, মালিবাগ, খিলগাঁও, বাড্ডা, গুলমান, উত্তরা, মহাখালী, তেজগাঁও, শ্যামবাজার, ডেমড়া, ওয়ারি, মানিকনগর, গোপীবাগ, মতিঝিল, হাজারীবাগ,আগারগাঁ, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, আদাবর, গাবতলী বড় বাজার, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়া অলি মিয়ার কাঁচাবাজার, বউ বাজার, শেওড়াপাড়া টেকনিকেল মোড়ে কাদির মাংস দোকান, কাজীপাড়া বাজার, ইব্রাহিমপুর বাজার, কচুক্ষেত বাজার, ১৪ নং কাঁচাবাজার, ১৩ নং কাঁচাবাজার, মিরপুর ১ নং কাঁচাবাজার, মিরপুর ৬ নং কাঁচাবাজার এবং মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচাবাজারসহ অলি গতিতে গড়ে উঠা শত শত মাংসের দোকানদার নির্ধারিত মূল্য তালিকা মানছে না।
এব্যাপারে নগরীর একাধিক মাংসের দোকানদার দাপটের সঙ্গে বলেন,সিটি করপোরেশন এবং মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা তো গরু কিনে দেয় না। আমরা (দোকানদার) ব্যবসা করতে বসেছি, তাও বেঁধে দেয়া মূল্য তালিকা মানার সময় নেই। ইচ্ছে হলে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩০০ টাকা নেন। আর পছন্দ না হলে কেটে পড়েন।
অথচ গত ২২ জুন ঢাকা দক্ষিণ নগর ভবনে (দক্ষিণের) প্রশাসক ইব্রাহিম হোসেন খানের সভাপতিত্বে মাংস ব্যবসায়ীদের যৌথ সভায় মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয়।এর মধ্যে দেশী গরুর মাংস কেজি ২৮০ টাকা ,বিদেশী গরুর মাংস ২৬০ টাকা, মহিষের মাংস ২৫০ টাকা, খাঁসির মাংস ৪৫০ টাকা, ছাগী ও ভেড়ার মাংস ৪০০ টাকা। আর এ মূল্য ১ রমজান থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত বহাল থাকবে।
ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উত্তরের প্রশাসক ফারুক জলিল, উত্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক,দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান, দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মতুর্জা, মহাসচিব মো. রবিউল আলম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ।
ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রামজান মাসে নির্ধারিত মূল্যে ভেজাল মুক্ত মাংস ডিজিটাল পাল্লায় ওজন দিয়ে বিক্রি করবেন। আর মোবাইল কোর্টেও মাধ্যমে যাতে হয়রানি করা না হয়,এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
মহাসচিব মো. রবিউল আলম বলেন, আমরা ১১ মাস ব্যবসা করি। কিন্তু রমজান মাসে শুধু ব্যবসার পাশাপিশি সেবাও করবেন বলে তিনি ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, নগরীতে প্রায় ১০ হাজার মাংস ব্যবসায়ী রয়েছেন। তারা কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত মূল্যে তালিকা টানিয়ে রাখতে বাধ্য এবং এ নির্ধারিত মূল্যই ডিজিটাল পাল্লায় মাংস বিক্রি করবে। যারা আইন অমান্য করবে,তাদের বিরুদ্ধে সমিতির সদস্যপদ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থানেয়া হবে। এমনকি থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা দক্ষিণের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতুল মন্ডল বলেন, নির্ধারিত মূল্য তালিকায় মাংস বিক্রি হচ্ছে না এ অভিযোগ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকেই আসছে। কিন্তু মোবাইল কোর্ট দেখলে গরুর মাংস ২৮০ টাকায় বিক্রি করেন। চলে আসলে আবার বেশি দামে বিক্রি করে। অনেকের ডিজিটাল পাল্লা নেই এটা সত্য।
তিনি বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে বড় ধরনেই অভিযান শুরু হবে। রোববার মাংস মুক্ত দিবসেও তারা মাংস বিক্রি করেন।
ঢাকা, একে, ১২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





