বেশী ইফতার দাবী করায় গাজীপুরের কাশিম পুর কারাগারের বন্দী জাভেদ প্রিন্সকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তদন্ত করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানী শেষে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গত ২ জুলাই দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় 'মধ্যযুগীয় কায়দায় বন্দি নির্যাতন' শীর্ষক একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ৫ জুলাই হাইকোর্টে রিট করে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী। মঙ্গলবার আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানী করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
আদালত নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের পাশপাশি রুল জারি করেছেন আদালত। রুলে জেলখানায় নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিবাদীদের প্রতি জেলকোডের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডি আইজি প্রিজন, কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার জান্নাতুল ফরহাদ, জেলার, সুবেদার খরশেদ, প্রাক্তন সুবেদার মুস্তাইন ও জমাদার লুতফর রহমানকে উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া দৈনিক যুগান্তর কর্তৃপক্ষকে এফিডেভিট আকারে ঐ প্রতিবেদনের যথর্থতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম রোজার দিন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে ইফতারের খাবারে আরেকটু বেশি ছোলা-মুড়ি চাওয়ায় মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক কারাবন্দি। হত্যা মামলার আসামী এই বন্দিকে পিসি টেবিলে (খাবার বিক্রির স্থান) নিয়ে দুই উরুর নিচ দিয়ে দুহাত নিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ফাঁক বাঁশ ঢুকিয়ে পেটানো হয়। পিটিয়ে তার পিঠসহ বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কারাগারটিতে বন্দিদের ইফতার হিসেবে সামান্য ডাল, ৭-৮ গ্রামের মতো ছোলা বুট ও অল্প কিছু মুড়ি খেতে দেয়া হয়। কিন্তু প্রায় ১৫ ঘন্টার রোজা রেখে এই সামান্য ইফতারে ক্ষুধা নিবারণ করতে পারছেন না বন্দিরা। এ বিষয়ে বন্দিরা কোনো ওজর আপত্তি জানালে জুটছে বর্বরোচিত নির্যাতন। গত ৩ রমজান ঢাকায় একটি আদালতে হাজিরা দেয়ার সময় ওই নিপীড়িত বন্দি গণমাধ্যমের কাছে কাশিমপুর কারাগারে নির্যাতিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন।এ সময় তিনি অন্য বন্দিদের ওপর ভয়ঙ্কর নির্যাতনের কথাও জানান।
ইআর





