বিদেশ থেকে চোরাই পথে আসা কোটি কোটি টাকার সোনার বার উদ্ধারের পর আত্মসাতের ঘটনায় ২৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই তালিকায় রয়েছেন এএসপি, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা।
গত ৫ মে সোমবার পর্যন্ত সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদকের উপপরিচালক যতন কুমার রায়। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও জিজ্ঞসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮/৯ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
দুদকের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সোনার বার উদ্ধারের পর আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে দুদক কর্তৃপক্ষের মৌখিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি তলবি পুলিশ কর্মকর্তারাদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
গত ৫ মে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ডিবির এসআই আনিসুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান,এসআই  নজরুল ইসলাম, এএসআই সোহেলসহ ৯ জনকে। এর আগে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্দু বালা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নাসিম আহমেদ, ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান এবং মতিঝিল থানার সেকেন্ড অফিসার (সাবেক রামপুরা থানা) কামরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বিদেশ থেকে চারাই পথে আসার কোটি কোটি টাকার শত শত কেজি সোনার বার আটক হচ্ছে। আর আটককৃত ওই সোনার বারগুলোর একটি অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বাকি সোনাগুলো কর্মরত পুলিশ সদস্য,কাস্টমস কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার দুই একজন সোনালোভী কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করে নেয়।
সম্প্রতি রামপুরা থানা পুলিশের সোনার বার ভাগাভাগির ঘটনা ফাঁস হবার এই বিষয়টি অনুসন্ধান ও তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। আর যতই দিন যাচ্ছে ততই নতুন নতুন তথ্য এবং অভিযোগ আসছে দুদকে। ওই সোনার বার আত্মসাতের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুলিশের এক সহকারী কমিশনার (এসি) সহ একাধিক কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন এমন তথ্যও আসছে দুদকে।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সোনার বার আটকের ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হবার কথা। আর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ে হলে তদন্ত করবে দুদক।
এই কারণে পুলিশ ইচ্ছে করেই ফৌজধারী দণ্ড বিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাগুলো দায়ের করে নিজেরাই তদন্ত করেন। ফলে আদালতে মামলাগুলোর সহজে শুনানি হয় না এবং মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয় না। আর আসামিরা অতি সহজেই পাড় পেয়ে যাচ্ছন বলেও মন্তব্য করেন দুদকের ওই কর্মকর্তা।
[b]ঢাকা, একে, ৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর   [/b]