যৌতুকের জন্য আগুনে পুড়িয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শরীফ উদ্দিন এ রায় দেন। ১৩ বছর আগে কেরোসিন দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ঢাকার ধামরাইয়ে সামিনা (১৮) নামের ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয়জন হলেন সামিনার স্বামী জাফর, জাফরের বোন রোকেয়া, রহিম, সালেক, ফেলা মিয়া ও জাহাঙ্গীর। এঁদের মধ্যে জাফর ছাড়া সবাই পলাতক। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

২০০৫ সালের ৭ জুন সামিনাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মামলার নথিপত্র বলছে, সামিনার সঙ্গে জাফরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল ১৬ হাজার টাকা। সামিনার বাবা জুরা মিয়া জাফরকে বিয়ের সময় ছয় হাজার টাকা যৌতুক পরিশোধ করেন। বাকি থাকে ১০ হাজার টাকা।

রায়ে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে জাফর সামিনাকে যৌতুকের ১০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। যেদিন সামিনার গায়ে আগুন দেওয়া হয়, এর তিন দিন আগে থেকে তাঁকে খাবার দেওয়া হতো না। ঘটনার দিন সামিনা ধামরাইয়ে জাফরের বোন রোকেয়ার বাসায় যান।

সেখানে অবস্থান করছিলেন জাফর। একপর্যায়ে সামিনাকে রোকেয়ার ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জাফর, রোকেয়া ও রহিম সামিনার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেদিন তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর আগে সামিনার জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

এমআর