মিথ্যা তথ্য দেয়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে আদালতের নির্দেশনা এখন ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আদালত ১৪ ডিসেম্বর নির্দেশনা দিলেও এ সংক্রান্ত লিখিত আদেশ ১৯ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে পৌঁছে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী ডিএমপির আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের হবে। তবে তদন্তভার যথারীতি ডিবি পুলিশের হাতে থাকবে।

প্রায় তিন মাস তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে ডিবি পুলিশ।

একইসঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ও হয়রানির অভিযোগ এনে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কছে দণ্ডবিধির ২১১ ও ১০৯ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চান।

তবে আদালতে দেয়া পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) প্রত্যাখ্যান করে মামলার বাদী ও ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার আদালতে নারাজি দিয়েছেলেন। একই সঙ্গে ফরিদা আখতার আদালতের কাছে মামলাটি নতুন করে তদন্তেরও দাবি জানান।

তবে আদালত দু’পক্ষের শুনানি শেষে ওই আবেদন খারিজ করে দেন। এ ঘটনার দু’দিনের মাথায় শনিবার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে খোলামেলা কথা বলেন ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আখতার।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্যামলীর রিং রোডের ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরে স্ত্রীকে নিজের মোবাইল ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। ঘটনার দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরহাদ মজহার নিজেই স্ত্রীর কাছে মোট ছয় দফা ফোন করে মুক্তিপণ বাবদ ৩৫ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানান।

এদিকে ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই স্ত্রী ফরিদা আখতার বাদী হয়ে আদাবর থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলা নং-০৪। এরআগে তিনি একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নং-১০১।

এদিকে ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।