৭৯ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও বিদেশে পাচারের মামলায় ওয়েস্টমন পাওয়ার লিমিটেডের মালিক কাজী তাজুল ইসলাম এবং জনতা ব্যাংকের তৎকালীন জিএম ফরিদ উদ্দিনকে তলব করেছে দুদক।
সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী এ তলবি নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী ২২ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় তাদেরকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, কাজী তাজুল ইসলাম ওয়ান ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণভবনে নগদ ৫ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন।
ওই সময় এ ঘুষ কেলেংকারি বিষয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। অবিশ্বাস্য ঘটনা হিসেবেও মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পরে ওই মামলাটি বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে,সিরাজগঞ্জে বেসকারি উদ্যোগে মালয়েশিয়ার কারিগরি সহায়তায় পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের নামে ওয়েস্টমন পাওয়ার লিমিটেডের মালিক কাজী তাজুল ইসলাম ২০০২ সালে জনতা ব্যাংক লোকাল শাখা থেকে প্রায় ৭৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়।
কিন্তু তিনি কোনো যন্ত্রপাতি আমদানি করেননি এমনকি পাওয়ার প্ল্যান্টও নির্মাণ করেননি। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে নেয়া ৭৯ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের মাধ্যমে তিনি আত্মসাৎ করেন তিনি।
আরো জানা যায়, এ ঘটনায় দুদক ২০০৯ সালে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে দুদকের উপ পরিচালক আক্তার হামিদ ভুইয়া বাদী হয়ে ২০১১ সালে ২১ এপ্রিল মতিঝিল থানায় মামলা নং ৬৪ দায়ের করেন।
থানায় মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০০৯ সালের ৪(২) ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় রেকর্ড করা হয়।
পরে মামলাটি তদন্ত করে উপ পরিচালক সৈয়দ তাহসিনুল হক কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু কমিশন এ প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরেক উপ পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
ফলে এ নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মামলার প্রধান আসামি কাজী তাজুল ইসলাম এবং জনতা ব্যাংকের তৎকালীন জিএম ফরিদ উদ্দিনকে সাক্ষ্যি হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ফরিদ উদ্দিন বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে কর্মরত। তবে প্রধান আসামি কাজী তাজুল ইসলাম রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাইরে।
একে/এসএইচ





