গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের আগুন দেয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আইন ও শালিস কেন্দ্রের করা এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ আখ খামারের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সেখানে বসবাসরত প্রায় আড়াই হাজার সাঁওতাল বসতি পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় বাঙালি-পুলিশ ও সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন সাঁওতাল আহত হন।
এ সময় নিহত হন ৩ সাঁওতাল। এ ছাড়া এ ঘটনায় মামলা করা হয় শতাধিক সাঁওতালের নামে। এতে আহত তিন সাঁওতালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায়ও আলাদা মামলা করা হয়।
এদিকে গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাঁওতালদের এলাকায় প্রবেশ করেছে পুলিশ সদস্যদের একটি দল। আশপাশে আরো অনেক গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়।
তখন দলটি একটি বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেই বাড়িটির চালা থেকে কিছু খড় খুলে নিয়ে তাতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন এক পুলিশ সদস্য। তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ওই দলে থাকা গোলাপি পোশাক পরিহিত আরেক ব্যক্তি।
পরে শার্ট পরিহিত আরেক ব্যক্তি এসে তাঁদের সহযোগিতা করেন। কিছুক্ষণ পরই দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে বাড়িটি। আর পাশে দাঁড়িয়ে তা দেখতে থাকেন অন্য পুলিশ সদস্যরা।
এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এই ভিডিও ও ছবি আদালতের নজরে আনা হলে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এমএনজে/এমবি
এমবি





