পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইব্রাহিম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামি জামিন পেয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ও হাইকোর্ট থেকে আলোচিত এই দুই মামলার নয় আসামি জামিন পান। আসামিরা জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের ভাষ্য।
হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা মামলায় জামিন পেয়েছেন হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, মো. শাহজালাল, ওমর ফারুক ওরফে মানিক ও চাঁন মিয়া।
এএসআই ইব্রাহিম হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন শেখ রফি আহম্মেদ, মাসুদ রানা ওরফে রিফতী, ইউনুস আলী, তৌফিকুর রহমান ও মিজানুর রহমান।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও তথ্য বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুর রহমান বলেন, মামলা দুটির নয় আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে হাতে তৈরি গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে দুজন নিহত ও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়। ওই গ্রেনেড হামলার আগের রাতে রাজধানীর গাবতলীতে এক ব্যক্তির ব্যাগ তল্লাশি করার সময় ছুরিকাঘাতে নিহত হন দারুস সালাম থানার এএসআই ইব্রাহিম।
হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে গত ১৫ মার্চ জামিন পান ওমর ফারুক। একই আদালত থেকে ২৮ মার্চ শাহজালাল, ২০ এপ্রিল আহসান উল্লাহ ও ২৬ মে চাঁন মিয়া জামিন পান। তাঁরা সবাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এএসআই ইব্রাহিম হত্যা মামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে জামিন পান শেখ রফি। মার্চ মাসে জামিন পান মাসুদ রানা, ইউনুস আলী ও তৌফিকুর রহমান। এপ্রিলে জামিন পান মিজানুর রহমান। তাঁরা সবাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এই আসামিরা জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের ভাষ্য।
দুই মামলায় জামিন পাওয়া নয় আসামিই বিচারিক আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন। জামিননামা দাখিলের অর্থ—সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি ছাড়া পেয়েছেন।
হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন জামিন পেয়েছেন।
আর এএসআই ইব্রাহিম হত্যা মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঁদের মধ্যে পাঁচজন জামিন পেয়েছেন।
হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত শেষ করেছে ডিবি। এখন পর্যন্ত আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।
এমআইএস





