প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার পুনঃতদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা যায় , দুদকের পরিচালক মো. বেলাল হোসেনের তদারকিতে উপ পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী ইতোমধ্যে বহুল আলোচিত ও প্রতারক সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার পুনঃতদন্ত শুরু করেছেন। আর সচিব শওকত হোসেনকে নিয়ে  একধরনের বেকায়দায় পড়েছে দুদক।

কারণ ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুদককে একটি দায় মুক্তির কমিশন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বেগম জিয়ার ভাষ্যমতে, আমলা প্রীতি, স্বজন প্রীতি এবং সরকারের হাতিয়ার হিসেবে দুদক কাজ করে এমন অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে বেশ কয়জনের বিষয়ে।তবে দুদকের কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বেগম জিয়ার এ মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেছেন একাধিকবার সাংবাদিকদের সামনে।

জানা যায়, সচিব শওকতকে এ ৩ মামলার অভিযোগ থেকে রক্ষার জন্য দুদকের চেয়ারম্যান এবং কমিশনারদের মধ্যে প্রচন্ড ঠান্ডা লড়াই হয়েছে। এ নিয়ে একাধিক বৈঠকে নানা যুক্তিতর্ক পর্যন্ত হয়েছে বলে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। যারফলে কমিশন বাধ্য হয়েছে  প্রতারক ও প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার আসামি সচিব শওকতের বিরুদ্ধে পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োরেগ।

আগের তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা পক্ষপাতিত্ব মূলক প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে  এক মাসপর পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।গত ৮ ডিসেম্বর দুদকের পরিচালক মো. বেলাল হোসেনের তদারকিতে উপ পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীকে নিয়োগ দেয়া হয়। আর এ  নতুন তদন্ত কর্মকর্তা  ১০ ডিসেম্বর (বুধবার) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

আরো জানা যায়, দুদকের  উপ পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী ইতোমধ্যে সচিব শওকতের বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মালিকানার বিষয়টি নিয়েও অনুসন্ধান চলিয়ে যাচ্ছেন।

গত ৯ নভেম্বর দুদকের  তদন্ত কর্মকর্তা  অবসরে যাবার এক দিন আগে  যতন কুমার রায় প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার আসামির পক্ষে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের সুপারিশ রেখেছেন।এর আগে ১ নভেম্বর মাত্র ৮দিনের জন্য উপ পরিচালক থেকে পরিচালক হিসেবে পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যতন কুমার রায় এ অপকর্মটি করেন।

 যাফলে গত ৩০ নভেম্বর কমিশনের  এক বৈঠকে  সিদ্ধান্ত হয় সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার পুনঃতদন্তের ।

জানা যায়,গত ২২ এপ্রিল দুদক প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে  নামে-বেনামে একাধিক প্লট গ্রহণ এবং বেআইনি ভাবে প্লটের আয়তন বৃদ্ধির অভিযোগে ৩টি মামলা দায়ের করে । আর এ মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন দুদকের  তৱকালীন উপ পরিচালক যতন কুমার রায় ।  তিনি টানা  ৬ মাস তদন্ত শেষে গত ৯ নভেম্বর ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করে  ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের অনুমতি চান।

 আসামি সচিব শওকত হোসেন রাজধানীর ইন্দিরা রোডে নিজের মালিকানায় অ্যাপার্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও নিজ নামে উত্তরায় রাজউকের প্লট নিয়েছেন। আকার পরিবর্তন করেছেন।

 সচিব শওকত তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে উত্তরা সম্প্রসারিত প্রকল্পে প্লট নিয়েছেন ও পরে আকার বৃদ্ধির মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। স্ত্রী আয়েশা খানমের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুই দফা আকার বৃদ্ধি করেছেন, যা ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা, দণ্ডবিধির ৪৭৭(ক)/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জানা যায়, সচিব শওকত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউক প্রকল্পে স্ত্রী ও মায়ের নামে একাধিক প্লট গ্রহণ করেছেন- এ অভিযোগের বিচার করতে হলে আরো প্রভাবশালী ১২০ বিশিষ্ট ব্যক্তির একাধিক প্লট গ্রহণের বিচার করতে হবে। ফলে এ প্রেক্ষাপটে অভিযোগ আনতে গেলে আরও অনেককেই ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযুক্ত করতে হবে। ফলে বিচারে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা নাকি  জটিল হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেগেছে আগের তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় ।একে,