মহাজোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান এবং এমপি আবদুর রহমান বদির স্ত্রীসহ এবার তাদের পরিবারের সদস্যরাও আসামি হচ্ছেন।

তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।                                                                                                                                                  

নাম না প্রকাশের শর্তে দুদর্কে একটি সূত্র জানায়,ওই মন্ত্রী এবং এমপিদের সম্পদের ভাগিদার তাদের স্ত্রীও পরিবারের সদস্যরাও।ফলে তারাও আসামি হবেন।কারণ স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের জন্যই বেশিরভাগ                                                    মন্ত্রী,এমপিরা দুর্নীতি করেন।

এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আজ (বৃহস্পতিবার) সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান,সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান এবং এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা করেছে দুদক।                                                                                                                                                                             

জানা যায়,দুদকের মামলায় তথ্য গোপনে দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় ৩ বছরের শাস্তি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে ২৭(১) ধারায় ৭ বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আসামি মান্নান খান : সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ৯৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৫৯ স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৯৭ টাকার তথ্য গোপন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ৭৫ লক্ষ ৪ হাজার ২৬২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।                                                                                                                                                                                                                                                                                                    তিনি গত ৯ এপ্রিল দুদক সচিবের দফতরে ২ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৬ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৯৩ লক্ষ ৫হাজার ৩৬২ টাকার অস্থাবর সম্পদের বিবরণী জমা দেন । তার ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৯২ লাখ ৩০ হাজার ৩৬২ টাকা।

অর্থাৎ তার ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৬২ টাকার সম্পদ   রয়েছে। তিনি ৪,৫৯,৫৯৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার মালিকানাধীন ১,৩৮,০০,১৩৭ টাকার সম্পদ অর্জনকালে জ্ঞাত আয়ের পরিমাণ ছিলো ৬২,৯৫,৮৭৫ টাকা। তিনি দুর্নীতির মাদ্যমে ৭৫ লক্ষ ৪ হাজার ২৬২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।                                                                                                                                                                                              

অভিযোগ রয়েছে তার অধিকাংশই স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার নামে। দুদক উপ পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন শিগগিরই মান্নানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ।

মাহবুবুর রহমান: সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় ৫ কোটি ১৯ লক্ষ ৫০হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক তার আয়কর নথির ৫ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের কোনো বৈধ উৎস পায়নি। এ অর্থ তার জ্ঞাত আয় বহির্ভুতও অবৈধ সম্পদ। মামলায় আরও বলা হয়, তিনি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি (২০০৮ ও ২০১৩ সালের) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দাখিলকৃত হলফনামা নির্বাচন কমিশন থেকে সংগ্রহ করা হয়।

২০০৮ সালে তার নিজ নামে ৫০ লক্ষ ৮৮ হাজার ১১২ টাকার সম্পদ ছিল। ২০১৩ সালের হলফনামা পর্যালোচনায় তার ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ ৫১২ টাকার সম্পদ রয়েছে। ২০০৮ - ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ৫ কোটি ৮৪ লক্ষ ১২ হাজার ৪শ’ টাকার মালিক হয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার ঋণ বাদে ৬ কোটি ৪১ লক্ষ ৭১ হাজার ৪৪১ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে অসাধু উপায়ে এ সম্পদ অর্জন করেন।

দুদকের অনুসন্ধানে তার স্ত্রী প্রীতি হায়দারের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়েছে। উপ পরিচালক মো. খায়রুল   হুদা শিগগিরই তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বদির বিরুদ্ধে মামলা: আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকার সম্পদ গোপন এবং ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩৩৭৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২০ মার্চ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তার নিজের,স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৫ কোটি ২০ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৩৮ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ উল্লেখ করেন।

দুদক তার বিবরণী যাচাই করে (বদির) গতবছর ৩০জুন পর্যন্ত অর্জিত আয় কর রিটার্ণ দাখিল করেন। তিনি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকা দেখান। এমপি বদি অসৎ উদ্দেশ্যে ১০ কোটি ৮৬ লক্ষ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

বদি কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১০৬৩/১২-তারিখ-২৭/০৩/২০১৪ সালে কক্সবাজারে ০.৬০ শতক নাল জমি রেজিস্ট্রি খরচ সহ ৪১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬২৫ টাকায় ক্রয় করেন। ৮ মাস ৮ দিন পর এ জমি তিনটি পৃথক দলিলে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় বিক্রি দেখান। যা ক্রয় মূল্যের চেয়ে ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বদির সম্পদের পরিমাণ ৪৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০১৩ সালের নির্বাচনের হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকা। যা আগের তুলনায় ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৭ টাকা বেশি।কিন্তু বদি অর্জিত এ অর্থের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।

দুদকের অনুসন্ধানে বদির স্ত্রী শাহিনা আক্তার সাকীর নামে বিপুল জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অর্থ-সম্পদ রয়েছে। উপ পরিচালক মোহাম্মদ সোবহান শিগগিরই তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।

ঢাকা,একে,২১ আগস্ট,টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ